বাংলাদেশ


৬ মাসে ৬৪১ কোটি টাকা লোকসানে রূপালী ব্যাংক


দুরবীন ডেস্ক

দুরবীন ডেস্ক

প্রকাশিত:৩০ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার

৬ মাসে ৬৪১ কোটি টাকা লোকসানে রূপালী ব্যাংক

রাষ্ট্রমালিকানাধীন রূপালী ব্যাংক চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) ৬৪০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা লোকসান করেছে। আগের বছরের একই সময়ে ব্যাংকটি প্রায় ৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা মুনাফা করেছিল। উচ্চ খেলাপি ঋণ, সুদ আয় কমে যাওয়া এবং আমানতের বিপরীতে সুদ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার এই অবনতি হয়েছে।

 

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এ প্রকাশিত ব্যাংকটির ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত বুধবার পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রতিবেদনটি অনুমোদন করা হয়।

 

আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ঋণের বিপরীতে রূপালী ব্যাংকের সুদ আয় হয়েছে ১ হাজার ২৯৪ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা। বিপরীতে আমানতকারী ও ধার করা অর্থের সুদ হিসেবে পরিশোধ করতে হয়েছে ২ হাজার ৬৩৯ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ হাজার ৩১৯ কোটি টাকা। ফলে নিট সুদ আয়ে ১ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এ ঘাটতি ছিল ৫৯৪ কোটি টাকা।

 

রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, অতীতে নিয়মবহির্ভূতভাবে অনেক খেলাপি ঋণ নিয়মিত দেখিয়ে আয় দেখানো হয়েছিল। বর্তমানে নিয়ম মেনে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করায় খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র সামনে এসেছে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও ভোক্তা ঋণ বিতরণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং বড় ঋণ অনুমোদনে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছয় মাসে ব্যাংকটির বিনিয়োগ থেকে আয় হয়েছে ১ হাজার ২০৪ কোটি টাকা, কমিশন, এক্সচেঞ্জ ও ব্রোকারেজ থেকে ১০১ কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৪০ কোটি টাকা। তবে বেতন-ভাতা, ভাড়া ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকটির পরিচালন লোকসান দাঁড়ায় ৬১০ কোটি টাকা। কর ও অন্যান্য সমন্বয়ের পর মোট লোকসান হয় ৬৪০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

 

গত জুন শেষে ব্যাংকটির মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ২৮ কোটি টাকা, যা ডিসেম্বর শেষে ছিল ৭২ হাজার ৬২ কোটি টাকা। একই সময়ে ঋণের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৫২ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা। তবে খেলাপি ঋণের হার ৩৯ শতাংশ থেকে সামান্য কমে ৩৮ শতাংশে নেমে এসেছে।

 

ডিএসইতে প্রকাশিত তথ্যে আরও জানানো হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) হয়েছে ১৩ টাকা ১৩ পয়সা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৫ টাকা ১ পয়সা। জুন শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২২ টাকা ৪৩ পয়সা।

 
 
 

সম্পর্কিত

রূপালী ব্যাংক

জনপ্রিয়


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

বিচারাধীন তথ্য গোপন, জিপিএইচ ইস্পাতকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা

আপিল বিভাগে একই বিষয়ে মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও সেই তথ্য গোপন করে নতুন করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করায় দেশের অন্যতম ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা করেছেন হাইকোর্ট। আগামী এক মাসের মধ্যে জরিমানার অর্থ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে জমা দিতে হবে। পরে অর্থটি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও কল্যাণমূলক কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।

ক্রিকেটার থেকে ‘শুটার’, চট্টগ্রামের অপরাধজগতে যেভাবে আলোচিত হয়ে উঠলেন ডেভিড ইমন

ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে অনুশীলন শুরু করেছিলেন। তবে অল্প কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই পরিচয় ছাপিয়ে চট্টগ্রামের অপরাধজগতের আলোচিত নাম হয়ে ওঠেন মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন। বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে ব্যবসায়ী, প্রবাসী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকদের কাছে কোটি কোটি টাকা চাঁদা দাবি, একের পর এক হত্যাকাণ্ড, অস্ত্রবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বারবার উঠে আসে তার নাম।

ময়মনসিংহে স্বামী হত্যা মামলায় দ্বিতীয় স্ত্রীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বহুল আলোচিত শফিকুল ইসলাম শপু হত্যা মামলায় তার দ্বিতীয় স্ত্রী আফরোজা শেখ ইতিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

রাষ্ট্রপতির পদে থাকার আগে বা পরে অভিযোগ থাকলে আইনি ব্যবস্থা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

রাষ্ট্রপতি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় আইনের মুখোমুখি না হলেও, দায়িত্ব গ্রহণের আগে বা দায়িত্ব ছাড়ার পর কোনো অভিযোগ থাকলে সেসব বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এ মন্তব্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে নয়, বরং যেকোনো রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।