আন্তর্জাতিক বিমানযাত্রায় কোনো যাত্রীর লাগেজ দেরিতে এলে বিমানবন্দর ছাড়ার আগেই প্রোপার্টি ইররেগুলারিটি রিপোর্ট (পিআইআর) ফরম পূরণ করে তার কপি ও ট্র্যাকিং নম্বর সংগ্রহের পরামর্শ দিয়েছেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে তিনি এ পরামর্শ দেন।

হোম ডেলিভারি না দেওয়ায় এক লাখ টাকা জরিমানা

ফেসবুক পোস্টে নওশাদ খান জানান, এক প্রবাসীর কুমিল্লার মুরাদনগরের ঠিকানায় দেরিতে আসা লাগেজ পৌঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান তা না করে দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ এলাকায় ডেকে নিয়ে লাগেজ দেয়।

বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস ও তাদের চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান জেটলাইন্স সার্ভিসেস লিমিটেডের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটি হোম ডেলিভারি না দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে।

এ ঘটনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান ম্যাজিস্ট্রেট।

লাগেজ দেরিতে এলে যা করবেন

নওশাদ খানের পরামর্শ অনুযায়ী, লাগেজ বেল্টে ব্যাগ না পেলে বিমানবন্দর ছাড়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড বা ব্যাগেজ কাউন্টারে গিয়ে পিআইআর ফরম পূরণ করতে হবে। সেখানে লাগেজের বিবরণ ও ডেলিভারির ঠিকানা দিয়ে ফরমের কপি এবং ট্র্যাকিং নম্বর সংগ্রহ করতে হবে।

তিনি আরও জানান, তাঁর পোস্ট অনুযায়ী, দেরিতে আসা লাগেজ হোম ডেলিভারির পাশাপাশি যাত্রীকে তাৎক্ষণিক ৩ হাজার টাকা দেওয়ার কথা রয়েছে। লাগেজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিধি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নতুন লাগেজ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ২১ দিনের মধ্যে লাগেজ ফেরত না পেলেও ক্ষতিপূরণ দাবি করা যেতে পারে।

অভিযোগ জানাবেন যেভাবে

লাগেজ বা যাত্রীসেবা নিয়ে হয়রানির শিকার হলে বিমানবন্দরের হটলাইন ১৩৬০০ নম্বরে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

এ ছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ০১৩০৪০৫০৬০৩ (হোয়াটসঅ্যাপ) নম্বরও দিয়েছেন।

সব এয়ারলাইনসকে যাত্রীদের নির্ধারিত ঠিকানায় লাগেজ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন নওশাদ খান।