বিয়ের বাকি ছিল মাত্র দুই সপ্তাহ। লাল শাড়ি, নতুন সিঁদুরসহ বিয়ের কেনাকাটাও শেষ হয়েছিল। এরই মধ্যে ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন গোপালগঞ্জের ২৫ বছর বয়সী নার্স বৃষ্টি ঘরামি। মৃত্যুর পরও তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছেন তার হবু বর।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টি ঢাকার শ্যামলীর একটি ট্রমা সেন্টারে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখানে প্রায় নয় মাস কাজ করেছেন তিনি। ১৬ অক্টোবর তাদের বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল। তবে তার আগেই ডেঙ্গুতে তার মৃত্যু হয়।
রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) বৃষ্টির সিঁদুর পরা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের দাবি, মরদেহ ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জে নেওয়ার পথে হবু বরের পরিবারের সদস্যরা বিয়ের কেনাকাটার জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে আসেন। পরে বৃষ্টির হবু বর তার কপালে সিঁদুর পরিয়ে দেন।
মৃত্যুর দিন সকালে বৃষ্টি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বি নেগেটিভ রক্তের প্রয়োজনের কথা জানিয়ে সহায়তার আবেদন করেছিলেন। পরে তার বড় বোন জানান, উচ্চ জ্বরের পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরিবারের অভিযোগ, সংকটময় সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনায় কিছুটা দেরি হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাকেন্দ্রের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নার্স হিসেবে রোগীদের প্রতি বৃষ্টির মমতার কথাও স্মরণ করছেন স্বজনরা। মৃত্যুর কয়েকদিন আগে দুর্ঘটনায় আহত এক কিশোরীর চিকিৎসার ছবি দিয়ে তিনি লিখেছিলেন, রোগী-নার্সের সম্পর্ক শুধু চিকিৎসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বিশ্বাস, ভরসা ও ভালোবাসা। সেই লেখাতেই রোগীর সঙ্গে তার আবেগঘন সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছিলেন বৃষ্টি।
বৃষ্টির আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। যে বিয়েকে ঘিরে ছিল নানা আয়োজন, সেটিই শেষ পর্যন্ত পরিণত হয়েছে এক বেদনাবিধুর স্মৃতিতে।










