সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) মৃত্যুর দিন ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে কী ঘটেছিল, তার বর্ণনা দিয়েছেন মঞ্জুর সরদার নামে এক ব্যক্তি। নিজেকে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করে সোমবার সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ তথ্য জানান।
মঞ্জুরের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) আদালতের কার্যক্রম শেষে বিকেল ৩টার দিকে তিনি গাজী নজরুলসহ কয়েকজনের সঙ্গে ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে যান। তারা গেস্ট রুমে খাবার খান। পরে গাজী নজরুল তাঁকে দ্রুত ভেতরে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে একটি কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান তারা।
মঞ্জুর দাবি করেন, দরজা খোলার চেষ্টা ব্যর্থ হলে কক্ষটির পেছনের দিকে গিয়ে একটি জানালা খোলা দেখতে পান। সেখান থেকে উঁকি দিয়ে মরিয়মকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, কক্ষের ভেতরে একটি চেয়ার ও প্লাস্টিকের টুলও পড়ে ছিল। তবে এসব বর্ণনা থেকে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে রোববার সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে সিআইডি ও পিবিআই এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং কারও সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা স্পষ্ট হবে।
এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও শ্যালক ওবায়দুল্লাহকে আসামি করা হয়েছে। গাজী নজরুল ও মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
মরিয়মের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে সোমবার শ্যামনগরে বিক্ষোভও হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বা কারও দায় নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।










