ন্যায্য ডেলিভারি চার্জ, যথাযথ পারিশ্রমিক, স্বচ্ছ নীতিমালা ও পেনাল্টি ব্যবস্থা, বীমা সুবিধাসহ বিভিন্ন দাবিতে ফুডপান্ডার রাইডাররা আজ প্রতিষ্ঠানটির হেড অফিসের সামনে অবস্থান করেন। এ সময় তারা রাইডারদের আয়, কাজের পরিবেশ ও বিভিন্ন নিয়মকানুন নিয়ে নিজেদের অসন্তোষ ও দাবির কথা তুলে ধরেন।

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া রাইডারদের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় রাস্তায় কাজ করেও প্রত্যাশিত আয় না হওয়া, জ্বালানি ও অন্যান্য দৈনন্দিন খরচ বৃদ্ধি, ডেলিভারি চার্জ ও রাইডার-এর প্রাপ্ত পারিশ্রমিক নিয়ে অস্পষ্টতা, ইনসেন্টিভ ও বোনাস-এর পর্যাপ্ততা, পেনাল্টি এবং অ্যাকাউন্ট সাশপেনশন-এর মতো বিষয়গুলো তাদের জন্য কাজকে কঠিন করে তুলছে।

তাদের অভিযোগ, একজন রাইডার-এর প্রতিদিনের আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ জ্বালানি, গাড়ি/মোটরসাইকেল রক্ষণাবেক্ষণ, মোবাইল ডাটা ও অন্যান্য কাজের খরচে চলে যায়। ফলে মূল ইনকাম এবং প্রকৃত হাতে থাকা আয়ের মধ্যে বড় পার্থক্য তৈরি হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।

citytouch 728-X-90

অবস্থান কর্মসূচিতে রাইডাররা বিভিন্ন সমস্যার কথা ও দাবি তুলে ধরেন, তার মধ্যে রয়েছে—

১। গরিবের পেটে লাথি আর কতদিন?

২। গরিবের পেটে লাথি মেরে ব্যবসা টেকে না। টিকে থাকতে হলে যারা রাস্তায় ঘাম ঝরান, তাদেরও ভালোভাবে বাঁচার সুযোগ দিতে হয়।

৩। কথা বললেই চাকরি নেই, কষ্ট-যন্ত্রণা যেন নিত্যসঙ্গী ফুডপান্ডা রাইডারদের

৪। আয় কম, খরচ বেশি সাথে লেট ফি, জরিমানা আর নিয়মের বেড়াজাল ফুডপান্ডার

৫। ন্যায্য ও স্বচ্ছ ডেলিভারি চার্জ, ইনসেনটিভ, বোনাস, বীমা, নিরাপত্তা সুবিধা নিশ্চিত করা

৬। জ্বালানি ও অন্যান্য operating cost বিবেচনায় যৌক্তিক পারিশ্রমিক কাঠামো করা এবং অ্যাপে থাকা বিভিন্ন নীতিমালা আরও স্পষ্ট ও সহজবোধ্য করা।

অবস্থান কর্মসূচির পর ফুডপান্ডা কর্তৃপক্ষ আলোচনার জন্য ৫–৬ জন রাইডারকে হেড অফিসের ভেতরে নিয়ে যায় বলে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা জানান। সেখানে রাইডারদের দাবিগুলো নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

রাইডাররা বলেন, তারা ফুডপান্ডার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে চান, তবে তাদের কাজের পারিশ্রমিক, নিয়মকানুন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও ন্যায্য ও স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন।