দেশের অভিজাত ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্কলাস্টিকা লিমিটেডের ৭৩০ কোটি টাকা ঋণদায়ের মধ্যে ৭২৭ কোটি টাকাই খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে আইএফআইসি ব্যাংকের নথিতে এ তথ্য পাওয়া গেছে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটির মোট ঋণদায়ের প্রায় ৯৯ দশমিক ৬ শতাংশই খেলাপি।
এর মধ্যেই স্কলাস্টিকার নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে ক্রিসেন্ট লিমিটেড নামের একটি কোম্পানিকে ৪২৭ কোটি টাকা দেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। ক্রিসেন্টের পরিচালকদের কয়েকজনের সঙ্গে বেক্সিমকো-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের যোগসূত্র রয়েছে বলে নথি ও অনুসন্ধানে জানা গেছে। আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন বেক্সিমকো গ্রুপের অন্যতম কর্ণধার সালমান এফ রহমান।
আইএফআইসি ব্যাংকের ঋণসংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে স্কলাস্টিকার মোট ঋণদায় ছিল প্রায় ৭৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৭২৭ কোটি টাকা খেলাপি হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে স্কলাস্টিকার এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, পরবর্তী সময়ে ব্যাংকঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে এবং ঋণ পরিশোধের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
স্কলাস্টিকার নিরীক্ষিত প্রতিবেদনে ক্রিসেন্ট লিমিটেডকে ৪২৭ কোটি টাকা দেওয়ার তথ্যও রয়েছে। রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসের (আরজেএসসি) নথি অনুযায়ী, ক্রিসেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুর রউফ এবং পরিচালক সালাউদ্দিন খান মজলিসের সঙ্গে নিউ ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিজের সম্পৃক্ততা ছিল।
নিউ ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিজকে বেক্সিমকো গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।ক্রিসেন্টের আর্থিক বিবরণীতেও বড় অঙ্কের ব্যাংকঋণের তথ্য রয়েছে। নিরীক্ষিত হিসাবে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্রায় ৩১৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং ব্যাংক ওভারড্রাফট প্রায় ৩৭৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ এই দুই খাতেই প্রতিষ্ঠানটির দায় প্রায় ৬৯৫ কোটি টাকা।
ক্রিসেন্টের পরিচালকদের নথিতে দেওয়া কয়েকটি ঠিকানা নিয়েও মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে অসংগতি পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের কারণে কোম্পানিটির বাস্তব কার্যক্রম, আর্থিক সক্ষমতা এবং স্কলাস্টিকার কাছ থেকে পাওয়া বিপুল অর্থের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব লেনদেনে অনিয়ম বা বেআইনি কর্মকাণ্ড হয়েছে এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে দেশের পরিচিত ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে স্কলাস্টিকা। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ও অন্যান্য ফি আদায়ের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির শত শত কোটি টাকার ব্যাংকঋণ এবং অন্য কোম্পানিকে বিপুল অর্থ দেওয়ার তথ্য সামনে আসায় এর আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও ঋণ ব্যবহারের ধরন নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে স্কলাস্টিকার ঋণদাতা আইএফআইসি ব্যাংকও বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণের চাপে রয়েছে। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২৮ হাজার কোটি টাকার বেশি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্কলাস্টিকার ঋণ ও ক্রিসেন্টের সঙ্গে বড় অঙ্কের লেনদেনের তথ্য তাই ব্যাংকের ঋণ যাচাই ও তদারকি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।








