ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মেট্রো স্টেশন বন্ধ ও ট্রেন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন, দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার এবং দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশনের (ডিএমআরসি) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আবেদনটি জমা দেওয়া হয়। আবেদনকারীর অভিযোগ, জনপরিবহন পুরোপুরি বন্ধ না রেখে নিয়ন্ত্রিতভাবে চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেই নির্দেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করেনি।

আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠি আবেদনটি করেছেন বলে জানা গেছে। আবেদনে বলা হয়েছে, আদালতের নির্দেশের পরও জনপরিবহনে ব্যাপক বিধিনিষেধ বহাল রাখা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দূরপাল্লার যাত্রী এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

citytouch 728-X-90

আবেদনকারীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার কার্যক্রম শুরু করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি জনপরিবহনে অযৌক্তিক বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। তবে এ আবেদনের বিষয়ে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা জানা যায়নি। অভিযোগগুলোও এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মেট্রো স্টেশন বন্ধ ও ট্রেন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হয়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে নিরাপত্তার অজুহাতে জনপরিবহন পুরোপুরি বন্ধ করা কিংবা সাধারণ মানুষের চলাচলে অযৌক্তিক বাধা সৃষ্টি করা যাবে না।

শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘একটি মাছি মারতে হাতুড়ি ব্যবহার করবেন না।’ অর্থাৎ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত নয়।

আদালত আরও জানায়, মেট্রো ও ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ না করে পরিস্থিতি অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এতে একদিকে নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের যাতায়াতও যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখা যাবে।

বিক্ষোভের প্রস্তুতি হিসেবে দিল্লি পুলিশ প্রথমে ৫৭টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। পরে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের পর ডিএমআরসি সেই সংখ্যা কমিয়ে ৪৫টি করে।

ডিএমআরসির ঘোষণা অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ৯টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নির্ধারিত স্টেশনগুলোর প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখার কথা ছিল। তবে নিউ দিল্লি মেট্রো স্টেশন ছাড়া অন্য স্টেশনগুলোতে আন্তঃসংযোগ বা ইন্টারচেঞ্জ সুবিধা চালু রাখার কথা জানানো হয়।

এদিকে, শনিবার সকাল ৪টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন রেলস্টেশনে আসা-যাওয়া করা একাধিক মেইল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের চলাচল বাতিল করা হয়।

বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি জনপরিবহনে বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়ে এখন আইনি প্রশ্ন উঠেছে। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে।