ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। তাঁর অভিযোগ, জম্মু-কাশ্মীরে যেভাবে বিধিনিষেধ আরোপ করা হতো, এবার দিল্লিতেও সেই ‘কাশ্মীর মডেল’ প্রয়োগ করা হচ্ছে।

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকে শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার এবং মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাত ১০টা থেকে মধ্য দিল্লির চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় ২৪ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড বসানো এবং একাধিক মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

citytouch 728-X-90

ওমর আবদুল্লাহর মতে, বিক্ষোভ মোকাবিলায় এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নাগরিক স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। জম্মু-কাশ্মীরে দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনেট বন্ধসহ বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি দিল্লিতে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার সমালোচনা করেন।

সিজেপির বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান দাবি ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যে দলটি এ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়ার ঘটনা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ এবং জনপরিবহনে বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা বলছে, অন্যদিকে এসব পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা ও নাগরিক অধিকারের ওপর এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সমালোচকেরা।