পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে জয় পেয়েছে বিজেপি। এর মধ্যে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দিয়েছিলেন বাবরি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় আসা রাজনীতিক হুমায়ুন কবীর। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ফলাফলে এ তথ্য জানা যায়।
নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রার্থী হাসি রানি রথ তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে এক লাখ ২০ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান পেয়েছেন ৪১ হাজার ৬৭৪ ভোট।
হাসি রানি রথ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রয়াত সহযোগী চন্দ্রনাথ রথের মা। গত ৬ মে চন্দ্রনাথকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল।
নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুটি আসন থেকেই জয়ী হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন। ফলে ওই আসনে উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়। ভবানীপুর আসনটি আগে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দখলে ছিল।
অন্যদিকে, রেজিনগর আসনে বিজেপির প্রার্থী শঙ্করভ সরকার ৭৫ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। এ আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, নন্দীগ্রামের সংখ্যালঘু ভোটাররাও বিজেপিকে সমর্থন করেছেন। রেজিনগরেও বিজেপির প্রাপ্ত ভোটের বড় অংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাছ থেকে এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রেজিনগর আসনে হুমায়ুন কবীর আসন ছেড়ে দেওয়ার পর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী গোলাম নবী আজাদ পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৯৮ ভোট। অন্যদিকে, বিজেপির শঙ্করভ সরকার পেয়েছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৯১৪ ভোট।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এই উপনির্বাচনকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিধানসভা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি সরকার গঠনের কয়েক মাসের মধ্যেই এই জয় পেল দলটি।
এবারের উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস পৃথকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। নন্দীগ্রামে তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে শেষ মুহূর্তে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। পরে দলটি কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেয়।
দুই আসনেই বিজেপির জয় পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে রেজিনগরের মতো সংখ্যালঘু ভোটার-অধ্যুষিত আসনে বিজেপির জয়কে কেন্দ্র করে ভোটের হিসাব ও রাজনৈতিক সমর্থনের ধরন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।










