ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ভোট চুরির অভিযোগে ‘রাজসাক্ষী’ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের প্রায় ২০০ কর্মকর্তা তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন বলে দাবি করেছেন কংগ্রেস নেতা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকর্তার মধ্যে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা, গোয়েন্দা বিভাগ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। তবে এ দাবির সমর্থনে তিনি বিস্তারিত তথ্য বা প্রমাণ প্রকাশ করেননি।
রোববার (১১ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছ থেকে তিনি নিয়মিত বার্তা পান। জ্ঞানেশ কুমারকে কী বার্তা দিয়েছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিইসিকে রাজসাক্ষী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। রাহুলের দাবি, জ্ঞানেশ কুমার তাঁর সংবাদ সম্মেলনও দেখছেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রাহুল গান্ধী বলেন, নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে সামনে রেখে অন্যরা নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণ করছেন।
কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রসঙ্গ তুলে রাহুল দাবি করেন, তদন্ত সংস্থা, গোয়েন্দা বিভাগ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রায় ২০০ কর্মকর্তা তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। তাঁদের কাছ থেকে সরকারের অভ্যন্তরীণ নানা তথ্য জানতে পারেন বলেও জানান তিনি। তবে ওই কর্মকর্তাদের পরিচয়, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের ধরন কিংবা কী ধরনের তথ্য তাঁর কাছে আসে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি কংগ্রেস নেতা।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধের মধ্যেই রাহুলের এ বক্তব্য সামনে এল। ভোট চুরির অভিযোগ তুলে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।
রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, বিরোধীদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। বিভিন্ন ধরনের চাপ ও বাধা এলেও তাঁরা আন্দোলন থেকে সরে আসবেন না বলে জানান তিনি। কংগ্রেসের সংবাদ সম্মেলনের পর বিরোধী জোটের নেতাদের দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। সেখান থেকে সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে মিছিল করার কর্মসূচিও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের দাবিতে বিরোধীদের আন্দোলনের পাশাপাশি ককরোচ জনতা পার্টিও বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের পর কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতিক্রিয়া কী হয়, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তাঁর অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য পাওয়া গেলে বিতর্কের বিভিন্ন দিক আরও স্পষ্ট হতে পারে।










