পাকিস্তানের করাচি শহরে বিক্ষোভ, মিছিল ও জনসমাবেশ নিয়ন্ত্রণে ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। রোববার (১১ অক্টোবর) জারি করা এ নির্দেশনা অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। জনদুর্ভোগ কমানো এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
করাচির কমিশনার সৈয়দ হাসান নকভির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শহরের প্রধান সড়ক, মোড় ও গোলচত্বরে বিভিন্ন বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি, মিছিল ও সমাবেশের কারণে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে জননিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সড়ক অবরোধের কারণে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে এবং হাসপাতালগুলোতে যাতায়াতও কঠিন হয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে করাচি বিভাগের আওতাধীন এলাকায় পাঁচজনের বেশি মানুষের যেকোনো ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের মতে, এ ধরনের জমায়েতের কারণে সড়ক ও জনসাধারণের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি নাগরিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া, যানজট বৃদ্ধি এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা পেতে বিলম্বের আশঙ্কাও রয়েছে। এসব কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো, জনশান্তি বজায় রাখা এবং নাগরিকদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
নির্দেশনা অনুযায়ী, ১১ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচজনের বেশি মানুষের অংশগ্রহণে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ, অবস্থান কর্মসূচি, মিছিল ও সমাবেশ আয়োজন, পরিচালনা, এতে সহায়তা কিংবা অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ থাকবে।
পাকিস্তানের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা অনুযায়ী, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে স্থানীয় প্রশাসন নির্দিষ্ট এলাকায় জনসমাবেশ, মিছিল, বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রকাশ্যে অস্ত্র বহন বা প্রদর্শনের ওপরও বিধিনিষেধ দেওয়া সম্ভব।
করাচি প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা, জরুরি সেবার কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাই এ নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য।










