ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর ড্রোন হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ সদস্য এবং চার বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে। এ ছাড়া হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
গাজার বিভিন্ন স্থানে এসব হামলার ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরের পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকায় ইসরাইলি ড্রোন হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্য নিহত হন।
ফিলিস্তিনের স্বরাষ্ট্র ও জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পুলিশ সদস্যরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করার সময় তাঁদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
এ ঘটনাকে ‘ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ’ আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের হত্যা বন্ধে ইসরাইলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত বছরের অক্টোবরে হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৭৫ জন পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, দক্ষিণ গাজায় একজন ‘সন্ত্রাসীকে’ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী।
এদিকে উত্তর গাজার গাজা সিটির রিমাল এলাকায় পৃথক ড্রোন হামলায় অন্তত তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে। আল-শিফা হাসপাতাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ওই হামলায় তাজ মল নামের একটি স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
এ ছাড়া আগের এক হামলায় আহত আরেক ফিলিস্তিনি পরে মারা গেছেন।
গাজা সিটিতে কর্মরত এক সাংবাদিকের ভাষ্য অনুযায়ী, আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুত বেসামরিক মানুষদের নিরাপত্তা দিতে টহলরত পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে পাঁচ পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
এর প্রায় এক ঘণ্টা পর গাজা সিটির কেন্দ্রস্থলে রেভল্যুশন স্ট্রিটে হাঁটার সময় আরও তিনজন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে একজন বাবা ও তাঁর শিশুসন্তান ছিল।
গাজা উপত্যকায় প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা নিয়মিত ঘটছে বলে জানিয়েছেন ওই সাংবাদিক। তাঁর মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা বলা হলেও ইসরাইলি হামলা বন্ধ না হওয়ায় উপত্যকাটিতে সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।








