ভারতের বিরোধী জোটের সমাবেশে জনসমাগম বেশি দেখাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি ব্যবহার করেছে কংগ্রেস— এমন অভিযোগ তুলে দলটিকে কটাক্ষ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তাঁর দাবি, সমাবেশে বিপুল মানুষের উপস্থিতি দেখানোর জন্য কংগ্রেসকে শেষ পর্যন্ত কৃত্রিম ছবি ব্যবহার করতে হয়েছে। তবে সেই ছবিও ঠিকভাবে তৈরি করতে পারেনি দলটি।
দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের সমাবেশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন রিজিজু। কংগ্রেসের সংসদ সদস্য বংশী গাড্ডাম ও দলের অন্য নেতাদের প্রকাশ করা জনসমাগমের একটি ছবি পোস্টের সঙ্গে যুক্ত করে তিনি এ অভিযোগ তোলেন।
রিজিজু লেখেন, ‘রামলীলা ময়দান পূর্ণ ছিল— এমনটা দেখাতে কংগ্রেসের ভুয়া বয়ান তৈরির দল যে এআই দিয়ে ছবিও বানিয়েছে, সেটিও ঠিকভাবে করতে পারেনি।’
কংগ্রেসের সাবেক সংসদ সদস্য ও কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য জগদীশ ঠাকুরও একই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন। পরে এক্স ব্যবহারকারীদের অনেকে ছবিটিকে এআই দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেন। ছবিতে সমাবেশের মঞ্চে রাহুল গান্ধী ও সোনিয়া গান্ধীর উপস্থিতি দেখানো হলেও মঞ্চটির সঙ্গে সমাবেশস্থলের প্রকৃত মঞ্চের পার্থক্য রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
সমাবেশকে শুরু থেকেই ব্যর্থ বলে দাবি করে আসছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। দলটির নেতারা সমাবেশস্থলের ফাঁকা চেয়ার দেখিয়ে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন। তাঁদের দাবি, রামলীলা ময়দানের অন্তত ৪০ শতাংশ জায়গা ফাঁকা ছিল।
সমাবেশের আগে কংগ্রেস দাবি করেছিল, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ১০ লাখ মানুষ অংশ নেবেন।
বিজেপির সংসদ সদস্য ও মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বলেন, কংগ্রেস ১০ লাখ মানুষের সমাগমের কথা বললেও মাঠের ৪০ শতাংশ জায়গা ফাঁকা ছিল।
রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, সমাবেশে মানুষের উপস্থিতি বেশি দেখাতে ‘কৌশলে ছবি তোলা’ হয়েছে। তবে এ ধরনের কৌশল কাউকে প্রধানমন্ত্রী বানাতে পারবে না।
বিজেপির অভিযোগের জবাবে কংগ্রেস সমাবেশস্থলের ড্রোনে ধারণ করা ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করে। দলটির দাবি, কর্মসূচিতে লাখো মানুষ অংশ নিয়েছেন।
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাহুল গান্ধী ভারতের লোকসভা নির্বাচনকে অবৈধ বলে দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকার কারণে নির্বাচনে ভোট চুরি হয়েছে।
রাহুল বলেন, ‘এই ভোট চুরি কোনো সাধারণ চুরি নয়। এটি ভারতের প্রতিটি মানুষের কণ্ঠস্বর চুরি। একে রাষ্ট্রদ্রোহ বলা হয়।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জ্ঞানেশ কুমার দায়িত্বে না থাকলে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী এবং অমিত শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারতেন না। নির্বাচনী অনিয়মে ভূমিকার জন্য জ্ঞানেশ কুমারকে কারাগারে যেতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর জবাবে সম্বিত পাত্র বলেন, রামলীলা ময়দানে দাঁড়িয়ে নির্বাচন অবৈধ বলে অভিযোগ করলেই তা প্রমাণিত হয় না। নির্বাচন নিয়ে আপত্তি থাকলে যথাসময়ে আইনি আবেদন করার আহ্বান জানান তিনি।
পাত্র বলেন, ‘নির্বাচনের পরপরই চ্যালেঞ্জ জানাতে হয়, এভাবে নয়। ২০২৪ সালের নির্বাচন অবৈধ— এমন অভিযোগে আপনারা যে আবেদন করেছেন, সেটি দেখান।’
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ ছিল এই সমাবেশ। নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়েও বিরোধী দলগুলো আপত্তি জানিয়ে আসছে।








