যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপ উপেক্ষা করে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে আবারও হামলা শুরু করেছে ইউক্রেন। রুশ কর্মকর্তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ সত্ত্বেও মস্কোর জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা অব্যাহত রেখেছে কিয়েভ।

রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন হামলায় রাশিয়ার নিজনি নভগোরোদ অঞ্চলের কস্তোভো তেল শোধনাগারে আগুন লাগে। এর কিছুক্ষণ আগে সামারা অঞ্চলে রুশ রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান রোসনেফটের মালিকানাধীন আরেকটি বড় তেল শোধনাগারেও হামলা চালানো হয়।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, হোয়াইট হাউসের চাপের মুখে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে ইউক্রেন। তবে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনারের পক্ষ থেকে ৩০ দিনের জন্য হামলা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানানো হলেও কিয়েভ তাতে সম্মতি দেয়নি।

রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, শুক্রবার থেকেই দেশটির তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের হামলা আবার শুরু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, কিয়েভ এখন যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধও উপেক্ষা করছে।

এদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে দায়ী করেছেন ট্রাম্প। গত মাসে রাশিয়ার ডিজেলের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করেন তিনি।

সাম্প্রতিক হামলার বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি জেলেনস্কি। তবে রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনকারী একটি প্রতিরক্ষা শিল্পপ্রতিষ্ঠানে হামলার কথা জানিয়েছেন তিনি। এ অভিযানে রাশিয়ার একটি প্যান্টসির ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।

রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে এ ধরনের অভিযানকে ইউক্রেনের ‘দূরপাল্লার নিষেধাজ্ঞা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন জেলেনস্কি।

তাঁর দাবি, ইউক্রেনের শহরগুলোর গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় রাশিয়ার ধারাবাহিক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব দিতেই পাল্টা অভিযান চালাতে হচ্ছে। রোববার রাতেও ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলে রুশ হামলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়। এতে কয়েক লাখ পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার হামলার তীব্রতা অনেক বেশি। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ব্যবস্থার ঘাটতিকে কাজে লাগিয়ে সর্বোচ্চ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে মস্কো। রাজধানী কিয়েভের একটি গুরুত্বপূর্ণ তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে আট থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।

এদিকে অক্টোবর মাসে রাশিয়ার ৫৪ হাজার ৪০০ সেনা নিহত ও আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন জেলেনস্কি। তাঁর মতে, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর এক মাসে রুশ বাহিনীর এটিই সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি।

একই সময়ে ইউক্রেন ৯৬ দশমিক ২ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। বিপরীতে রাশিয়া এর চেয়ে ১০ দশমিক ৪ বর্গকিলোমিটার কম এলাকা দখল করতে পেরেছে বলে জানান জেলেনস্কি। তাঁর মন্তব্য, ‘রাশিয়া হারছে।’