যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশটির কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারণ করবেন ভোটাররা। প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি এবং ১০০ সদস্যের সিনেটের ৩৫টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। পাশাপাশি ৩৬টি অঙ্গরাজ্যের ভোটাররা তাদের গভর্নর নির্বাচন করবেন। এবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন দেশটির ২৩ কোটিরও বেশি নিবন্ধিত ভোটার।
বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষই ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এবারের নির্বাচনে সেই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাই দলটির বড় চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশ সময় কখন শুরু হবে ভোটগ্রহণ?
যুক্তরাষ্ট্রে ভোটগ্রহণ শুরুর কেন্দ্রীয়ভাবে নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। প্রতিটি অঙ্গরাজ্য নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী ভোটগ্রহণের সময় নির্ধারণ করে। দেশটিতে সবার আগে স্থানীয় সময় ভোর ৫টায় ভার্মন্টে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় খুলবে রাজ্যটির ভোটকেন্দ্র।
এরপর নিউ জার্সি, ভার্জিনিয়া, কানেকটিকাট ও কেনটাকিতে স্থানীয় সময় সকাল ৬টায়, অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টায় ভোটদান শুরু হবে।
এ ছাড়া জর্জিয়া, ফ্লোরিডা, পেনসিলভানিয়া ও নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। ওহাইও ও নর্থ ক্যারোলাইনায় ভোট শুরু হবে বিকেল সাড়ে ৫টায়। মিশিগানে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায় ভোটকেন্দ্র খুলবে।
ভোটগ্রহণ শেষ কখন?
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন সময় অঞ্চল থাকায় ধাপে ধাপে ভোটকেন্দ্র বন্ধ হবে। সবার আগে ইন্ডিয়ানা ও কেনটাকিতে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায়, অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে।
মিশিগানে স্থানীয় সময় রাত ৮টায় এবং কানসাসে সন্ধ্যা ৭টায় ভোট শেষ হবে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী, উভয় রাজ্যে ভোটগ্রহণ শেষ হবে বুধবার ভোর ৬টায়। আইওয়াতে স্থানীয় সময় রাত ৮টায়, অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৭টায় ভোটকেন্দ্র বন্ধ হবে।
সবার শেষে আলাস্কায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে। রাজ্যটিতে বাংলাদেশ সময় বুধবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার কথা।
কখন পাওয়া যাবে চূড়ান্ত ফলাফল?
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই মঙ্গলবার রাত থেকে প্রাথমিক ও আংশিক ফলাফল প্রকাশ শুরু হবে। মঙ্গলবার রাত পেরিয়ে বুধবার পর্যন্ত বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ভোট গণনার ফল সামনে আসবে।
ভোটগ্রহণ শেষ হলে নির্বাচনী কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকায় ভোট গণনার আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করবেন। তবে প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের অর্থ চূড়ান্ত বিজয়ী নিশ্চিত হওয়া নয়। কেন্দ্রভিত্তিক ব্যালট যাচাই ও গণনা শেষে নির্বাচনী কর্মকর্তারা ফলাফল প্রকাশ করবেন।
বিভিন্ন গণমাধ্যম এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে কোনো আসনের বিজয়ী নিশ্চিত করতে পারে। তবে সব আসনের চূড়ান্ত ফল পেতে আরও সময় লাগতে পারে।
এ নির্বাচনে ভোটাররা ডাকযোগে, আগাম ভোটের মাধ্যমে অথবা নির্বাচনের দিন সরাসরি ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের বর্তমান অবস্থান থেকে চারটি আসন বাড়তি পেতে হবে। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য দলটির প্রয়োজন অন্তত তিনটি অতিরিক্ত আসন। ফলে এবারের নির্বাচনের ফল যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও আইন প্রণয়ন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।








