বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে বিমানসেনা হিসেবে যোগ দিয়ে কারিগরি ও অ-কারিগরি বিভিন্ন শাখায় ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে। নিয়োগের পর প্রশিক্ষণ, পদোন্নতি ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একজন বিমানসেনা ধাপে ধাপে উচ্চতর র‍্যাঙ্কে যেতে পারেন।

বিমানসেনার ট্রেড

বিমানসেনাদের সাধারণত বিভিন্ন টেকনিক্যাল, নন-টেকনিক্যাল ও বিশেষ ট্রেডে নিয়োগ দেওয়া হয়। টেকনিক্যাল ট্রেডের মধ্যে রয়েছে এয়ারক্রাফট ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইনস্ট্রুমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং, রেডিও ইঞ্জিনিয়ারিং, রাডার অপারেটিং ও গ্রাউন্ড সিগন্যালিং।

citytouch 728-X-90

এ ছাড়া প্রোভোস্ট, ক্যাটারিং, লজিস্টিকস, প্রশাসনিক কাজ, মেডিকেল সহকারী, মিউজিশিয়ান ও এয়ারক্রু ট্রেডেও কাজের সুযোগ রয়েছে।

শারীরিক যোগ্যতা

ট্রেডভেদে প্রার্থীর উচ্চতা, ওজন, বুকের মাপ ও দৃষ্টিশক্তির শর্ত আলাদা হতে পারে। সাধারণ বিমানসেনা পদের ক্ষেত্রে পুরুষের ন্যূনতম উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি এবং নারীর ৫ ফুট বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রভোস্ট ট্রেডে পুরুষের ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি ও নারীর ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতা প্রয়োজন হতে পারে।

সাধারণভাবে পুরুষের বুকের মাপ ৩০ ইঞ্চি ও প্রসারণে ৩২ ইঞ্চি এবং নারীর ২৮ ইঞ্চি ও প্রসারণে ৩০ ইঞ্চির শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। দৃষ্টিশক্তির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ করতে হয়।

শিক্ষাগত যোগ্যতা

টেকনিক্যাল ট্রেডে সাধারণত বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫০ চাওয়া হয়। নন-টেকনিক্যাল ও প্রভোস্ট ট্রেডে বিভাগভেদে এসএসসি বা সমমানের যোগ্যতা এবং ন্যূনতম জিপিএর শর্ত থাকে।

এ ছাড়া এমটিওএফ ও মেডিকেল সহকারীসহ বিশেষ ট্রেডে আলাদা শিক্ষাগত যোগ্যতা রয়েছে। শিক্ষা প্রশিক্ষক ও সাইফার অ্যাসিস্ট্যান্টের মতো পদের জন্য উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতাও প্রয়োজন হতে পারে।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিভেদে যোগ্যতা, বয়স ও শারীরিক মানদণ্ড পরিবর্তিত হতে পারে, তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত যাচাই করা জরুরি।

নিয়োগ পরীক্ষার ধাপ

বিমানসেনা পদে নির্বাচনের ক্ষেত্রে সাধারণত কয়েকটি ধাপ পার হতে হয়—

  • প্রাথমিক ডাক্তারি পরীক্ষা
  • লিখিত পরীক্ষা
  • চূড়ান্ত ডাক্তারি পরীক্ষা
  • মৌখিক পরীক্ষা

লিখিত পরীক্ষায় ট্রেডভেদে আইকিউ, ইংরেজি, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও সাধারণ জ্ঞান থেকে প্রশ্ন আসতে পারে।

আইকিউ পরীক্ষায় দ্রুত প্রশ্ন সমাধানের দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ। টেকনিক্যাল ট্রেডের জন্য এসএসসি পর্যায়ের গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক বিষয় ভালোভাবে প্রস্তুত করা প্রয়োজন। নন-টেকনিক্যাল ট্রেডে ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞানের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বয়সসীমা

প্রদত্ত নিয়োগ তথ্য অনুযায়ী সাধারণ বিমানসেনা ট্রেডে বয়সসীমা ১৬ থেকে ২১ বছর। শিক্ষা প্রশিক্ষক ও সাইফার অ্যাসিস্ট্যান্টের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৮ বছর, এমটিওএফে ২৪ বছর এবং মেডিকেল সহকারী পদে ২৬ বছর পর্যন্ত বয়সসীমা থাকতে পারে।

পদোন্নতির ধাপ

প্রশিক্ষণ ও চাকরির অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিমানসেনাদের পদোন্নতির ধাপ সাধারণত—

এয়ারক্রাফটসম্যান-২ → এয়ারক্রাফটসম্যান-১ → লিডিং এয়ারক্রাফটসম্যান → করপোরাল → সার্জেন্ট → ওয়ারেন্ট অফিসার → সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার → মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার।

পদোন্নতি নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর নিয়ম, কর্মদক্ষতা, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ওপর।

বেতন ও অন্যান্য সুবিধা

বিমান বাহিনীতে চাকরির সঙ্গে সরকারি বেতন-ভাতা, পেনশন ও গ্র্যাচুইটির মতো সুবিধা থাকে। দায়িত্ব ও ট্রেড অনুযায়ী বিভিন্ন ভাতা প্রযোজ্য হতে পারে।

এ ছাড়া সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা, আবাসন, রেশন, প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন পেশাগত কোর্সে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে। যোগ্যতা ও নির্বাচনের ভিত্তিতে দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগও থাকতে পারে।

পরিবারের সদস্যদের জন্য চিকিৎসা, শিক্ষা ও আবাসনসহ বিভিন্ন সুবিধা প্রযোজ্য হতে পারে। তবে সুবিধার ধরন ও যোগ্যতা সংশ্লিষ্ট বিধিমালা এবং চাকরির অবস্থানের ওপর নির্ভর করে

ক্যারিয়ার গড়তে প্রস্তুতি নেবেন যেভাবে

বিমানসেনা হতে আগ্রহীদের শুরু থেকেই শারীরিক ফিটনেস, ইংরেজি, আইকিউ, সাধারণ জ্ঞান এবং ট্রেডভিত্তিক বিষয় নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। পাশাপাশি চোখের দৃষ্টি ও অন্যান্য শারীরিক মানদণ্ড নিয়েও সচেতন থাকা প্রয়োজন।

নিয়োগের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সংশ্লিষ্ট বছরের বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অফিসিয়াল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া যোগ্যতা ও শর্ত অনুসরণ করা।