ফুসফুসের ক্যানসারের একটি ধরন পালমোনারি অ্যাডেনোকার্সিনোমায় আক্রান্ত হয়েছেন পোপ চতুর্দশ লিও—এমন তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর চিকিৎসা ও রোগটি নিয়ে আলোচনা সামনে এসেছে। এ ধরনের ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় স্পষ্ট কোনো উপসর্গ প্রকাশ করে না। এ কারণেই একে অনেক ক্ষেত্রে ‘নীরব ক্যানসার’ বলা হয়।
পালমোনারি অ্যাডেনোকার্সিনোমা হলো নন-স্মল সেল লাং ক্যানসারের একটি ধরন। এটি সাধারণত ফুসফুসের বাইরের অংশের গ্রন্থিকোষে শুরু হয়। ফুসফুসের ক্যানসারের অন্যতম সাধারণ ধরন এটি। ধূমপান এর একটি ঝুঁকির কারণ হলেও অধূমপায়ীদের মধ্যেও এ রোগ দেখা দিতে পারে। রেডন গ্যাস, বায়ুদূষণ এবং অন্যান্য পরিবেশগত ও জৈবিক কারণও ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।
এই ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষণহীন থাকতে পারে। ফলে অনেক সময় রোগী বুঝতে পারেন না যে তাঁর ফুসফুসে ক্যানসার তৈরি হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘস্থায়ী কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, কাশির সঙ্গে রক্ত আসা কিংবা অকারণে ওজন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে এসব লক্ষণ অন্য রোগের কারণেও হতে পারে।
পোপের চিকিৎসা নিয়ে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, রোমের আগোস্টিনো জেমেলি ইউনিভার্সিটি পলিক্লিনিকে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) তাঁর ফুসফুসে অস্ত্রোপচার করা হয়। টিউমার অপসারণের জন্য ডান ফুসফুসের নিচের একটি লোব বা অংশও বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ফুসফুসের একটি অংশ অপসারণের পর রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাস ও ফুসফুসের কার্যক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম, পুনর্বাসন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করতে হয়। রোগীর বয়স, সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক অবস্থার ওপর সুস্থ হয়ে ওঠার সময় নির্ভর করে।
ক্যানসার কতটা ছড়িয়েছে, তা নির্ধারণ করা চিকিৎসার পরবর্তী ধাপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অস্ত্রোপচারে অপসারণ করা টিউমার ও লিম্ফ নোডের টিস্যু পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যানসারের পর্যায় এবং ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়। এসব ফলাফলের ভিত্তিতে শুধু অস্ত্রোপচার যথেষ্ট হবে, নাকি কেমোথেরাপি, ইমিউনোথেরাপি কিংবা লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসার প্রয়োজন হবে, তা নির্ধারণ করেন চিকিৎসকেরা।
প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হওয়া এবং ক্যানসার ফুসফুসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চিকিৎসার ফল তুলনামূলক ভালো হতে পারে। তবে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা নির্ভর করে ক্যানসারের পর্যায়, টিউমারের বৈশিষ্ট্য, রোগীর শারীরিক অবস্থা এবং চিকিৎসার ফলাফলের ওপর। তাই শুধু অস্ত্রোপচার সফল হওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে ব্যক্তিগতভাবে সুস্থতার নির্দিষ্ট সম্ভাবনা নিশ্চিত করে বলা যায় না।
পালমোনারি অ্যাডেনোকার্সিনোমার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঝুঁকির কারণ সম্পর্কে সচেতন থাকা, দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করানো। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসার সুযোগ বাড়ে।










