রাজধানীর মিরপুরে ছিনতাইয়ের পর সায়মন নামে এক গার্মেন্টসকর্মীকে হত্যার মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ মামলায় ছিনতাই করা মোবাইল ফোন কেনার অভিযোগে আরেক আসামিকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মো. ইউসুফ, ইকবাল খাঁ ও মেহেদী হাসান। আর তিন বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম সুজন।
রায় ঘোষণার সময় আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে শাস্তি হয় না—এমন ধারণা যেন মানুষের মধ্যে তৈরি না হয়, সে জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন।
প্রথম মাসের বেতন নিয়ে বের হয়েছিলেন সায়মন
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর সায়মন প্রথম মাসের বেতন পাওয়ার পর বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে মিরপুরের সনি সিনেমা হল এলাকায় যান। তার সঙ্গে ছিলেন দুই বন্ধু। ১০ হাজার টাকা বেতনের মধ্যে প্রায় দুই হাজার টাকা খরচ করে তিনি একটি প্যান্টও কিনেছিলেন।
পরে বাসায় ফেরার পথে মিরপুর এলাকায় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন সায়মন ও তার এক বন্ধু। ছিনতাইকারীরা একটি ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ তুলে তাদের ছবি দেখানোর কথা বলে রিকশায় মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এলাকায় নিয়ে যায়।
সেখানে সায়মনকে কিছুটা দূরে নিয়ে তার কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা সায়মনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চাকরির খোঁজে ঢাকায় এসেছিলেন
সায়মনের বাড়ি বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে। চাকরির সন্ধানে তিনি ঢাকায় এসে মিরপুরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেছিলেন। চাচার সঙ্গে থেকে পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন তিনি।
প্রথম মাসের বেতন হাতে পাওয়ার পর বন্ধুদের সঙ্গে বের হয়েছিলেন সায়মন। সেদিন রাতেই ছিনতাইকারীদের হামলায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় সায়মনের বাবা দারুস সালাম থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। একই বছরের ২ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়।
১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ
মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। সাক্ষ্য ও মামলার বিভিন্ন নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং সুজনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে পলাতক আসামি সুজনের বিরুদ্ধে সাজাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
রায়ে আসামিদের সাত দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে।








