কুমিল্লার স্কুলছাত্রী জান্নাতুন তাজমীনকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সুমন মিয়াকে ঘিরে নানা তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের দাবি, মাদকাসক্তির কারণে পারিবারিক বিরোধে জড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন সমস্যায় জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। কিশোরী হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয়েছে নিহতের আইফোন।
পুলিশ জানায়, সুমন মিয়ার বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। তিনি পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক। দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জয়নগর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সুমন নিয়মিত গাঁজা ও ইয়াবা সেবন করতেন। মাদক সেবনের অর্থ জোগাতে শ্বশুরবাড়ির বিভিন্ন দামি আসবাব বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে তাঁর স্ত্রী মামলা করেন এবং সন্তানকে নিয়ে আলাদা থাকতে শুরু করেন। এরপর সুমন অটোরিকশা চালিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড
তদন্তে পাওয়া তথ্য ও আদালতে দেওয়া সুমনের জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গত বুধবার মধ্যরাতে কক্সবাজার থেকে ফিরে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় নামেন স্কুলছাত্রী জান্নাতুন তাজমীন। সেখান থেকে কুমিল্লা শহরে যাওয়ার জন্য তিনি ৩০০ টাকায় সুমনের অটোরিকশা ভাড়া করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সংক্ষিপ্ত পথে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সুমন কিশোরীকে নির্জন স্থানে নিয়ে যান। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তাজমীন চলন্ত অটোরিকশা থেকে লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। তবে সুমন তাঁকে ধাওয়া করে ধরে ফেলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশের দাবি, সেখানে তাজমীনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হলে তিনি বাধা দেন। এ সময় তাঁদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরপর তাজমীনের ব্যাগ থেকে আইফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান সুমন। পরে ফোনটি একটি জঙ্গলে ফেলে চট্টগ্রামে চলে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার, উদ্ধার আইফোন
বৃহস্পতিবার কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর বাবা অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।
পরে গোয়েন্দা ও থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাগমারার একটি জঙ্গল থেকে নিহতের আইফোন উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার রাতে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুল হকের আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন সুমন। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, সুমন মাদকাসক্ত ছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁর কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে তদন্ত চলছে।
অন্যদিকে, কুমিল্লা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ শামছুল আলম শাহ জানান, মামলার তদন্তের স্বার্থে কথিত প্রেমিক রাজু চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে কুমিল্লায় আনা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘিরে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য ও সম্ভাব্য যোগসূত্র যাচাই করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।










