বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পাশাপাশি আরও দুই ব্যক্তির প্রতিকৃতি যুক্ত করার ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তাঁর মতে, বিষয়টি সাধারণ ঘটনা নয়। এর নেপথ্যে কারা রয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি গ্রেফতারের ঘটনা বিশ্লেষণ করে আড়ালে কোনো পক্ষ অন্য উদ্দেশ্যে কাজ করছে কি না, সেদিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১২ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন ফারুকী।
পোস্টে তিনি লেখেন, “আমাদেরকে আজাইরা আলাপে ব্যস্ত রাইখা আড়ালের কেউ কোন কলকাঠি নাড়ার কাজে ব্যস্ত এসব দিকে একটু চোখ টোখ রাইখেন।”
ফারুকী বলেন, গত কয়েক সপ্তাহে সাবেক সেনা কর্মকর্তাসহ সীমান্তে ও দেশের ভেতরে বেশ কয়েকটি গ্রেফতারের ঘটনা বিশ্লেষণ করলে বিভিন্ন বিষয় অনুমান করা সম্ভব। এ পরিস্থিতিতে শিল্পকলার দেয়ালে প্রতিকৃতি যুক্ত করার সিদ্ধান্তের পেছনে কারা রয়েছেন, তা খুঁজে দেখা উচিত।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে সরকারি পর্যায়েই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে সম্মান জানানো হয়। তাঁকে উদ্যাপনে বাধা দেওয়ার কোনো ঘটনা তাঁর জানা নেই। তবে শিল্পকলার দেয়ালে রবীন্দ্রনাথের পাশাপাশি অন্য দুই ব্যক্তির প্রতিকৃতি হঠাৎ যুক্ত করার বিষয়টিকে তিনি অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন।
ফারুকীর মতে, এই সিদ্ধান্ত কার ভাবনা থেকে এসেছে এবং কারা এটি বাস্তবায়ন করেছেন, তা অনুসন্ধান করলে এর পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। এ বিষয়ে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর খোঁজ নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শিল্পকলার দেয়ালে আঁকা প্রতিকৃতিতে কালি দেওয়ার ঘটনাকে নিয়েও সমালোচনা করেন ফারুকী। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে মূল আলোচনা থেকে মানুষের মনোযোগ অন্যদিকে সরে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, দেশের বর্তমান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত বাংলাদেশ পুনর্গঠন। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক—সব ক্ষেত্রেই দেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদী শক্তি কীভাবে এসব ক্ষেত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং সেখান থেকে উত্তরণের উপায় কী, তা নিয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
এর আগে শিল্পকলার দেয়ালে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন লেখক, কবি ও চিত্রকর ব্রাত্য রাইসু। ১০ জন গুণী ব্যক্তির প্রতিকৃতির তালিকায় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ও হাসান আজিজুল হকের ছবি না থাকায় তিনি আপত্তি জানান। পাশাপাশি সমাজ সংস্কারক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের প্রতিকৃতি আঁকার বিষয়েও সমালোচনা করেন।










