গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তার হাজী আব্দুর রহিম পাইকারি কাপড়ের মার্কেটে আগুন দেওয়ার হুমকি দিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মো. জুয়েল আহমেদ (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার এ তথ্য জানান।
পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর বিকেল ৫টা ১৯ মিনিটে বাসন থানার চান্দনা চৌরাস্তার হাজী আব্দুর রহিম পাইকারি মার্কেটের পরিচালনা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিলটন হোসেনের মোবাইল ফোনে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি কল করেন। ওই ব্যক্তি তাঁর কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মার্কেটে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সুযোগ পেলে তাঁকে খুন ও জখম করার হুমকি দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় মিলটন হোসেন বাদী হয়ে ৬ অক্টোবর গাজীপুর মহানগর পুলিশের বাসন থানায় মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩৮৫, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
ঘটনাটি তদন্তে পিবিআই গাজীপুর জেলা ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১২ অক্টোবর রাত ১২টা ৫০ মিনিটে গাজীপুর মহানগরের বাসন থানার দিঘীরচালা এলাকা থেকে জুয়েল আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাঁকে আদালতে পাঠানো হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাতে পিবিআই জানায়, জুয়েলের বাড়ি জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার কাঠারবিল এলাকায়। তিনি প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর ধরে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করছিলেন। এ সময় অনলাইন ক্যাসিনো ও জুয়ায় আসক্ত হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও পরিচিতজনের কাছ থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা ঋণ করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য তিনি ওই মার্কেটের সামনে থাকা সাইনবোর্ড থেকে ফোন নম্বর সংগ্রহ করেন। এরপর মার্কেট কর্তৃপক্ষের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে আগুন দেওয়ার হুমকি দেন বলে পিবিআইয়ের ভাষ্য।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, হুমকির মুখে বাদী প্রথমে বিকাশের মাধ্যমে তিন হাজার টাকা দেন। পরে আরও দুই হাজার টাকা দেওয়া হয়। এরপর সোমবার আরও ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল। তবে তার আগেই অভিযানে গ্রেপ্তার হন জুয়েল।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৫ ডিসেম্বর একই মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় মার্কেটের বড় একটি অংশ পুড়ে যায়। বিপুল পরিমাণ মালামাল, নগদ টাকা ও আসবাবপত্রের ক্ষয়ক্ষতি হয়। পিবিআই জানিয়েছে, অতীতের ওই অগ্নিকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেই চাঁদা দাবির সময় আরও বড় ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, মার্কেট ও জনসমাগমস্থলে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি মোকাবিলায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। চাঁদাবাজি প্রতিরোধে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নিরাপত্তাপ্রহরী নিয়োগ এবং অন্যান্য নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, অনলাইন গ্যাম্বলিং, ক্যাসিনো ও প্রচলিত জুয়া থেকে মানুষকে দূরে রাখতে রাষ্ট্রীয়, প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিপর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকানো সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
মামলাটি তদন্ত করছেন পিবিআই গাজীপুর জেলার উপপরিদর্শক মো. সোহেল রানা।










