অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত প্যাকেটজাত খাদ্য ও পানীয় সম্পর্কে ভোক্তাদের সচেতন করতে দেশে প্রথমবারের মতো ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) বিষয়ে গণমাধ্যমভিত্তিক প্রচারণা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিতে ভোক্তাদের সহায়তা এবং এ বিষয়ে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নে সরকারের উদ্যোগকে সমর্থন জানানো এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ প্রচারণা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। প্রজ্ঞা, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, ঢাকা আহছানিয়া মিশন, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি) ট্রাস্ট, কোয়ালিশন ফর হেলদি ফুড এবং সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স (সিএলপিএ) যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।
বাংলাদেশে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশের জন্য অসংক্রামক রোগ দায়ী। এসব রোগের মধ্যে হৃদরোগ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিস অন্যতম। এ ছাড়া, দেশের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রায় ৩১ দশমিক ৮ শতাংশের অতিরিক্ত ওজন রয়েছে এবং ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ স্থূলতায় আক্রান্ত। অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যের মোড়কের সামনের অংশে সতর্কতামূলক লেবেল থাকলে কোনো পণ্যে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বি রয়েছে কি না, তা সহজেই শনাক্ত করতে পারবেন ভোক্তারা। পুষ্টি-সংক্রান্ত তথ্য সহজ ও স্পষ্টভাবে তুলে ধরার মাধ্যমে অষ্টভুজ আকৃতির সতর্কবার্তা মানুষকে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত অস্বাস্থ্যকর উপাদানযুক্ত পণ্য কেনার প্রবণতা কমাতেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রচারণা কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত অস্বাস্থ্যকর প্যাকেটজাত খাদ্য ও পানীয় সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে মোড়কের সামনে সতর্কবার্তা বা এফওপিএল-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রবিধানমালা প্রণয়নে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।
দুই মাসব্যাপী এ প্রচারণায় ভিডিও ও অডিও বিজ্ঞাপন, স্থিরচিত্র এবং জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করা হবে। টেলিভিশন, রেডিও, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন মাধ্যম ও মুদ্রিত সংবাদপত্রের পাশাপাশি গুগল বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেও প্রচারণা চালানো হবে। অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এসব উপকরণ প্রচার করা হবে।
কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণভাবে ব্যবহৃত প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যে থাকা অস্বাস্থ্যকর উপাদান এবং অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, দেশে প্যাকেটজাত খাদ্য ও পানীয়ের মোড়কে সতর্কতামূলক লেবেল সংক্রান্ত প্রবিধানমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সরকারকে সহায়তা করাও এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. সোহেল রেজা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (খাদ্যশিল্প ও উৎপাদন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব এবং গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের কান্ট্রি লিড মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস।
ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিভাগের পরিচালক ইকবাল মাসুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক সাইফুদ্দিন আহমেদ, প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের এবং সিএলপিএর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।








