জাতীয় বেতনকাঠামো ২০২৬ কার্যকর হলে সরকারি কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণে বিভিন্ন অসংগতি দেখা দিতে পারে। প্রারম্ভিক মূল বেতনে এগিয়ে থাকা ১১তম গ্রেডের কর্মচারীরা নতুন কাঠামোয় ১২তম গ্রেডের কর্মচারীদের তুলনায় কম মূল বেতন পেতে পারেন। একই সঙ্গে পদোন্নতির পর মূল বেতন বাড়লেও বাড়িভাড়া ভাতার হার কমে যাওয়ায় কারও কারও মাসিক আয় কমার আশঙ্কা রয়েছে।
কর্মচারীদের হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বেতনকাঠামোয় ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২৫ হাজার টাকা এবং ১২তম গ্রেডের ২৪ হাজার ৩০০ টাকা। অর্থাৎ প্রারম্ভিক মূল বেতনে ১১তম গ্রেড ৭০০ টাকা এগিয়ে। তবে আগের বেতনকাঠামোয় অর্জিত বেতনবৃদ্ধি সমন্বয় করে নতুন বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে।
হিসাব অনুযায়ী, ১১তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর ২০১৫ সালের প্রারম্ভিক মূল বেতন ছিল ১২ হাজার ৫০০ টাকা। গত ৩০ জুন তাঁর মূল বেতন দাঁড়ায় ২৩ হাজার ৬৬০ টাকা। অর্থাৎ আগের কাঠামোয় তাঁর মূল বেতন বেড়েছিল ১১ হাজার ১৬০ টাকা। নতুন কাঠামোর প্রারম্ভিক মূল বেতনের সঙ্গে এই বৃদ্ধি যোগ করলে দাঁড়ায় ৩৬ হাজার ১৬০ টাকা। তবে নির্ধারিত বেতনধাপ অনুযায়ী তাঁর নতুন মূল বেতন ৩৭ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ১২তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর ২০১৫ সালের প্রারম্ভিক মূল বেতন ছিল ১১ হাজার ৩০০ টাকা। গত ৩০ জুন তাঁর মূল বেতন দাঁড়ায় ২৩ হাজার ৫৮০ টাকা। আগের কাঠামোয় তাঁর বেতন বেড়েছিল ১২ হাজার ২৮০ টাকা। নতুন কাঠামোর প্রারম্ভিক মূল বেতনের সঙ্গে এই বৃদ্ধি যোগ করলে হয় ৩৬ হাজার ৫৮০ টাকা। পরবর্তী বেতনধাপ অনুযায়ী তাঁর মূল বেতন নির্ধারণ করা হচ্ছে ৩৭ হাজার ৭০০ টাকা।
ফলে প্রারম্ভিক বেতনে এগিয়ে থাকলেও এই হিসাব অনুযায়ী নতুন কাঠামোয় ১১তম গ্রেডের কর্মচারী ১২তম গ্রেডের কর্মচারীর চেয়ে ৭০০ টাকা কম মূল বেতন পেতে পারেন।
কর্মচারীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, নতুন বেতনকাঠামোর সুবিধা ধাপে ধাপে কার্যকর হলেও দুই গ্রেডের বেতনের ব্যবধান বজায় থাকবে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৫০ শতাংশ সুবিধা কার্যকর হলে ১১তম গ্রেডের মূল বেতন দাঁড়াবে ৩১ হাজার ২৩০ টাকা এবং ১২তম গ্রেডের ৩১ হাজার ৫৯০ টাকা। এ ক্ষেত্রে ব্যবধান হবে ৩৬০ টাকা।
একইভাবে, ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ৭৫ শতাংশ সুবিধা কার্যকর হলে দুই গ্রেডের মূল বেতন হবে যথাক্রমে ৩৫ হাজার ১৫ টাকা ও ৩৫ হাজার ৫৯৫ টাকা। তখন ব্যবধান দাঁড়াবে ৫৮০ টাকা। আর ১ জুলাই ২০২৭ থেকে শতভাগ সুবিধা কার্যকর হলে ১১তম গ্রেডের মূল বেতন হবে ৪০ হাজার ৮০০ টাকা এবং ১২তম গ্রেডের ৪১ হাজার ৬০০ টাকা। সে ক্ষেত্রে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়াবে ৮০০ টাকা।
পদোন্নতিতে বাড়িভাড়া ভাতা কমার আশঙ্কা
নতুন বেতনকাঠামোয় বাড়িভাড়া ভাতার হার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সরকারি কর্মচারীরা। তাঁদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, দশম গ্রেডের একজন কর্মচারী ১০ বছর চাকরি পূর্ণ করার পর নবম গ্রেডে পদোন্নতি বা প্রথম উচ্চতর গ্রেড পেলে তাঁর মূল বেতন ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫১ হাজার টাকা হতে পারে। এতে মূল বেতন বাড়বে ১ হাজার ৩০০ টাকা।
তবে দশম গ্রেডে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা ২৪ হাজার ৮৫০ টাকা হলেও নবম গ্রেডে ৪৫ শতাংশ হারে তা হবে ২২ হাজার ৯৫০ টাকা। অর্থাৎ বাড়িভাড়া ভাতা কমবে ১ হাজার ৯০০ টাকা।
এতে মূল বেতন ১ হাজার ৩০০ টাকা বাড়লেও বাড়িভাড়া ভাতা কমবে ১ হাজার ৯০০ টাকা। ফলে মূল বেতন ও বাড়িভাড়া ভাতা মিলিয়ে মাসিক আয় আগের তুলনায় ৬০০ টাকা কমে যেতে পারে। অন্যান্য ভাতা ও কর্তনের হিসাব এখানে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
উচ্চতর গ্রেড নিয়েও আপত্তি
উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সময় নির্ধারণ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন কর্মচারীরা। তাঁদের আশঙ্কা, চাকরির মেয়াদ এবং উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সময়ের পার্থক্যের কারণে জ্যেষ্ঠ ও জুনিয়র কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণে অসংগতি তৈরি হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জুনিয়র কর্মচারীর মূল বেতন জ্যেষ্ঠ কর্মচারীর চেয়ে বেশি হওয়ার পরিস্থিতিও সৃষ্টি হতে পারে।
কর্মচারীদের দাবি, নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের আগে এসব অসংগতি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বেতন নির্ধারণ, গ্রেডের মধ্যে বেতনের সামঞ্জস্য, পদোন্নতি এবং উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার নিয়ম পুনর্বিবেচনা করলে সম্ভাব্য বৈষম্য কমানো সম্ভব হবে।
তবে কর্মচারীদের উত্থাপিত হিসাব ও আশঙ্কার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং প্রযোজ্য বিধিমালা যাচাই করা প্রয়োজন।







