সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় সময়মতো কনস্যুলার সহায়তা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কথিত ব্যর্থতার অভিযোগে হাইকোর্টে জনস্বার্থমূলক রিট আবেদন করা হয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতাকে কেন বেআইনি ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন জানিয়েছেন রিটকারী।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাসমিয়াহ নুহিয়া আহমেদ জনস্বার্থে এ রিট আবেদন করেন।
রিটে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক, সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, জেদ্দায় বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল এবং সংশ্লিষ্ট শ্রমকল্যাণ উইংয়ের প্রধানকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের আলোকে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাদের আইনগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের জন্য কনস্যুলার সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কী ধরনের তথ্য ও নথি ছিল এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য কী ধরনের সহায়তামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, তা যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে।
রিটে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সব বিদেশি মিশনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানোর আদেশ চাওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে, মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের মামলা জরুরি ভিত্তিতে পর্যালোচনা, আপিল ও ক্ষমার আবেদনের সময়সীমা শনাক্ত এবং এসব মামলার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারণ। পাশাপাশি আইনসম্মত কনস্যুলার যোগাযোগ নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিও আবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে।
এ ছাড়া সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির মামলাসংক্রান্ত নথি এবং তাদের সহায়তায় কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে ১৪ দিনের মধ্যে হলফনামা দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিদেশে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের পরিবারের পক্ষে আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা, ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা এবং বিদেশের বিচারব্যবস্থায় আইনি সহায়তা পাওয়ার জটিলতা এ পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে। এ কারণে মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা নাগরিকদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সক্রিয় ও সময়োপযোগী ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর সরকারের নেওয়া কূটনৈতিক পদক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেও রিটকারী জানতে চেয়েছেন, সংশ্লিষ্ট দুই বাংলাদেশি যথাসময়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা পেয়েছিলেন কি না। এ বিষয়ে সরকারি নথির ভিত্তিতে পর্যালোচনার আবেদন জানানো হয়েছে।
রিটে আরও বলা হয়েছে, সংবাদ প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য, সংশ্লিষ্ট মামলার বিবরণ এবং দুই বাংলাদেশির জন্য কী ধরনের কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া হয়েছিল, তা সরকারি নথির মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।






