তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। রাজধানীর উত্তরখান এলাকার রাজাবাড়ী ঘাট থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় আলোচনায় এসেছিলেন তাহসিফ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন তাহসিফ সাউরি। পরদিন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।

উদ্ধারের সময় তার পরনে ছিল সাদা পাজামা ও কালো পাঞ্জাবি। হাতে ঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। ওই ফোনের সূত্র ধরে পরে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। তার বাবার নাম কে এম এনায়েতুর। তিনি উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের ১৪বি ভবনে বসবাস করতেন।

ডিএমপির উত্তরখান থানার এক কর্মকর্তা জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর বিষয়টি থানাকে জানানো হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। মরদেহ হস্তান্তর ও অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নৌ-পুলিশের কাছ থেকে জানা যাবে।

নৌ-পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তা শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দৃশ্য ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের ঘটনায় আলোচনায় এসেছিলেন বিমানবাহিনীর দুই কর্মকর্তা। তাদের একজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট রিফাত আশরাফী। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি কুর্মিটোলা এয়ারবেইসের অফিসার্স মেসের একটি কক্ষের জানালা দিয়ে ঘটনাটি ধারণ করেন। অন্যদিকে, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে ভিডিওটি প্রকাশ করেছিলেন।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর দুজনকেই বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় বিমানবাহিনী। পরে তদন্তে ভিডিও ধারণের স্থান ও তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে রিফাত আশরাফী নিজের কক্ষের জানালা থেকে ভিডিও ধারণের কথা স্বীকার করেন বলে জানা যায়। তাহসিফ সাউরিও নিজের আইডি থেকে ভিডিওটি প্রকাশের কথা স্বীকার করেছিলেন।