আইনজীবীর ভুলের কারণে মক্কেলকে ভোগান্তির শিকার হতে দেওয়া উচিত নয় বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। জমির মালিকানা সংক্রান্ত একটি মামলার রায়ে আদালত বলেছেন, মামলার আরজি তৈরিতে আইনজীবীর ভুল থাকলে তার দায় মক্কেলের ওপর চাপানো ন্যায়সংগত নয়।
মোহাম্মদ আসিফ বনাম রাষ্ট্র মামলায় এ পর্যবেক্ষণ দেন বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি তামান্না রহমান খালিদীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। জমির মালিকানা সংক্রান্ত ফার্স্ট আপিলের শুনানি শেষে আদালত অধস্তন আদালতের রায় ও ডিক্রি বাতিল করে মামলাটি পুনর্বিচারের জন্য ফেরত পাঠান।
রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
রায়ে আদালত বলেন, মামলার আরজি প্রস্তুতের সময় সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ভুল করেছিলেন। এতে বাদীর কোনো ভূমিকা ছিল না। তাই আইনজীবীর ভুল বা ত্রুটির কারণে মক্কেলকে ভোগান্তির শিকার হতে দেওয়া উচিত নয়।
আদালত আরও বলেন, মামলার সামগ্রিক তথ্য-উপাত্ত ও নথিপত্র বিবেচনায় উভয় পক্ষকে নিজ নিজ আরজি সংশোধন এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এভাবে মামলাটি পুনর্বিচারের জন্য বিচারিক আদালতে পাঠানো হলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, মোহাম্মদ আসিফ বিরোধপূর্ণ ৬৭ দশমিক ৪০ শতাংশ জমির মালিকানা ঘোষণার আবেদন নিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হন। তার দাবি, জমিটি প্রসন্ন কুমার বসু ও অন্যদের মালিকানাধীন ছিল এবং সিএস খতিয়ান নম্বর ২৭১৫-এ যথাযথভাবে রেকর্ড করা হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে নিবন্ধিত পাট্টা দলিলের মাধ্যমে জমিটি কাজী আবু সাঈদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে নিবন্ধিত কবলা দলিলের মাধ্যমে জমির মালিকানা সালাহউদ্দিন ও খলিল মিয়ার কাছে যায়। খলিল মিয়া তার অংশও পরবর্তী সময়ে সালাহউদ্দিনের কাছে হস্তান্তর করেন।
তবে আরএস খতিয়ানে ৬৭ দশমিক ৪০ শতাংশ জমির পরিবর্তে ৫৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ জমি ভুলবশত কাজী সালাহউদ্দিনের নামে রেকর্ড করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে সালাহউদ্দিন নিবন্ধিত কবলা দলিলের মাধ্যমে মোহাম্মদ আসিফের কাছে জমি হস্তান্তর করেন। আসিফের দাবি, তিনি ওই জমিতে একটি কারখানা স্থাপন করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন। কিন্তু সিটি সার্ভের খতিয়ান নম্বর ১-এ জমিটি বিবাদীদের নামে রেকর্ড করা হয়। ওই রেকর্ডের ভিত্তিতে স্থানীয় তহশিলদার তার কাছ থেকে খাজনা নেওয়া বন্ধ করে দেন।
এ পরিস্থিতিতে সিটি সার্ভের খতিয়ান ভুল ও অবৈধ ঘোষণার আবেদন জানিয়ে ঢাকার যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা করেন মোহাম্মদ আসিফ।
তবে মামলার আরজিতে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী জমির পরিমাণ এবং আরএস ও সিটি সার্ভের খতিয়ানে থাকা ভুলের বিষয়গুলো যথাযথভাবে উপস্থাপন করেননি বলে হাইকোর্টের রায়ে উঠে এসেছে। গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো সঠিকভাবে তুলে না ধরায় মামলাটিতে বাদী ক্ষতিগ্রস্ত হন।
এরপর ২০১৭ সালের ১৫ জুন ঢাকার যুগ্ম জেলা জজ আদালত মামলাটি খারিজ করে রায় ও ডিক্রি দেন। ওই সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হয়ে মোহাম্মদ আসিফ ২০১৮ সালে হাইকোর্টে ফার্স্ট আপিল করেন।
আপিলের শুনানি শেষে হাইকোর্ট অধস্তন আদালতের রায় ও ডিক্রি বাতিল করে মামলাটি পুনর্বিচারের নির্দেশ দেন। আদালতের মতে, উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও অতিরিক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হলে মামলাটির ন্যায়সংগত নিষ্পত্তির পথ তৈরি হবে।






