দীর্ঘদিনের পদোন্নতিজনিত জটিলতা নিরসন ও পেশাগত বৈষম্য দূর করার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন ৩৮তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের প্রভাষক পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

স্মারকলিপিতে প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতিযোগ্য সব কর্মকর্তার পদোন্নতি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পদস্বল্পতা ও পদোন্নতির দীর্ঘসূত্রতা নিরসনে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার দেশের শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। এ ক্যাডারের কর্মকর্তারা মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তবে প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টি না হওয়া এবং পদোন্নতিতে নানা জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে তাদের পেশাগত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এ অবস্থায় সমস্যা সমাধানে ৩৬তম, ৩৭তম ও ৩৮তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তাদের পদোন্নতির বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা, নিয়মিত বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভা আয়োজন, প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টি এবং পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তাদের জন্য সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মতে, পদোন্নতির দীর্ঘসূত্রতা শুধু তাদের পেশাগত মর্যাদা ও কর্মপ্রেরণায় প্রভাব ফেলছে না, বরং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করছে। তাই শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের স্বার্থে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর শিক্ষক-কর্মকর্তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা নিজেদের দাবির যৌক্তিকতা ও পদোন্নতিসংক্রান্ত সমস্যাগুলো তুলে ধরেন।

সাক্ষাতে অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মহাপরিচালক তাদের বক্তব্য ও দাবিগুলো শোনেন এবং বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে দীর্ঘদিনের পদোন্নতিজনিত জটিলতা নিরসন করবেন।