চীনের সাংহাইয়ে ১৭ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হুয়াওয়ে কানেক্ট ২০২৬-এ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শিল্পখাতের নেতৃবৃন্দ, গ্রাহক, সহযোগী ও প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞগণ অংশ নেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত ডিজিটাল সংযোগ এবং উন্মুক্ত সহযোগিতার মাধ্যমে কীভাবে আরও বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন, উৎপাদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা যায়, তা ছিল এই আয়োজনের মূল আলোচ্য বিষয়।

“অ্যাডভান্সিং দ্য এজেন্টিক ওয়ার্ল্ড” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত হুয়াওয়ের এ বার্ষিক ফ্ল্যাগশিপ ইভেন্টে এমন একটি ভবিষ্যতদৃষ্টি তুলে ধরা হয়, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতকে আরও উন্নত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে সহায়তা করবে।

হুয়াওয়ে বলছে, বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন বিশ্ব গঠনে উন্মুক্ত সহযোগিতা এবং সবার অংশগ্রহণ অপরিহার্য। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুফল যাতে দায়িত্বশীল, নিরাপদ ও টেকসই উপায়ে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেজন্য সরকার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, ডেভেলপার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

citytouch 728-X-90

মূল বক্তব্যে হুয়াওয়ের ডেপুটি চেয়ারম্যান অব দ্য বোর্ড ও রোটেটিং চেয়ারম্যান ডেভিড ওয়াং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারে বিভিন্ন শিল্পখাতকে সহায়তা করতে হুয়াওয়ের নতুন কিছু সমাধান উন্মোচন করেন।

এর মধ্যে রয়েছে এআই কম্পিউটিংয়ের জন্য অ্যাটলাস ৯৬০ই সুপারপড, উন্নত কম্পিউটিং সক্ষমতার তাইশান ৯৫০ সুপারপড এবং এআইভিত্তিক কাজের জন্য ডেটা সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় সহায়ক ওশানস্টোর এম৯০০। এসব নতুন সমাধানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ডিজিটাল অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে, ক্রমবর্ধমান ডেটা ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে এবং এআই প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণে সহায়তা পাবে।

হুয়াওয়ে বড় পরিসরের বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন সিস্টেমে কার্যকর সংযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের সর্বশেষ উদ্যোগও তুলে ধরেছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন শিল্পখাত, প্রতিষ্ঠান ও মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং সক্ষমতা এবং বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন প্রযুক্তিসুবিধা আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্য রয়েছে। টেলিযোগাযোগ, আর্থিক সেবা, উৎপাদন, জ্বালানি, পরিবহন, সরকারি সেবা ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে এআই কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়ানো, সেবার মান উন্নত করা, উদ্ভাবনকে এগিয়ে নেওয়া এবং নতুন প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরিতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ডেভিড ওয়াং বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হাত ধরে বিশ্ব এক গভীর রূপান্তরের যুগে প্রবেশ করছে। এ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল অবকাঠামো, উন্মুক্ত প্রযুক্তি ইকোসিস্টেম এবং শিল্পখাতজুড়ে সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

হুয়াওয়ে কানেক্ট ২০২৬-এ ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেম এবং পরবর্তী প্রজন্মের সংযোগ প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়। হুয়াওয়ে গ্রাহক ও সহযোগীদের সাথে কাজ করে ডিজিটাল রূপান্তরকে এগিয়ে নিতে এবং সবার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গভাবে সংযুক্ত ও বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ভবিষ্যৎ গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।