ইয়ারবাডস অর্ডার করে পার্সেল খুলে পাওয়া গেল ফাঁকা বাক্স। প্রখ্যাত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম 'কার্টআপ' থেকে কেনাকাটা করে এমনই চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমান। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর স্থায়ী নিবাস চুয়াডাঙ্গা জেলায়।
মাহফুজের বর্ননা অনুযায়ী, গত ১১ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে তিনি হোকো ব্র্যান্ডের একটি ইয়ারবাড়স ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান 'কার্টআপ'-এ অর্ডার করেন। ১,১৩৮ টাকা মূল্যের ওই ইয়ারবাডসটি বিশেষ মূল্যছাড় ও ডেলিভারি ফি সহ মোট ৯৬৩ টাকায় অর্ডার করা হয়েছিল। কুরিয়ার সার্ভিস 'ক্যারিবি'র ডেলিভারিম্যানের কাছ থেকে ৯৬৩ টাকা পরিশোধ করে পার্সেলটি গ্রহণ করেন মাহফুজুর। তবে পার্সেলটি হাতে পাওয়ার পর তিনি লক্ষ্য করেন, মূল বক্সের বাহ্যিক কোনো ক্ষয়ক্ষতি না থাকলেও ইয়ারবাডসের বাক্সের ওপর যে পাতলা প্লাস্টিকের পলি বা সিলিং কভার থাকে, তা অনুপস্থিত ছিল। পরবর্তীতে তিনি নিজ কক্ষে রুমমেটের উপস্থিতিতে প্যাকেটটি খুলতেই দেখেন ভেতরে কাঙ্ক্ষিত পণ্যটি নেই।
ঘটনার পরপরই কার্টআপ-এর গ্রাহক সেবায় অভিযোগ জানানো হলে প্রতিষ্ঠানটি বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেয়। তবে পরবর্তীতে তারা দাবি করে, তাদের পক্ষ থেকে সঠিকভাবেই পণ্য পাঠানো হয়েছিল। প্যাকেট খোলার সময়ের 'আনবক্সিং ভিডিও' না থাকার অজুহাতে তারা কোনো প্রকার সাহায্য, রিফান্ড বা রিপ্লেসমেন্ট দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে ডেলিভারিম্যানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রায়শই এমন ঘটনা ঘটে তবে এতে তার কোনো হাত নেই।
প্রতারণার শিকার হয়ে অন্য ক্রেতাদের সতর্ক করতে মাহফুজুর রহমান কার্টআপ-এর ওয়েবসাইটে নেতিবাচক মতামত (১-স্টার রিভিউ) প্রদান করতে যান। কিন্তু তিনি দেখতে পান, প্ল্যাটফর্মটিতে কোনো নেতিবাচক পর্যালোচনা প্রকাশ করা হয় না এবং কেবল ইতিবাচক মন্তব্যগুলো প্রদর্শিত হয়।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা হলে সেখানে কমেন্ট সেকশনে একের পর এক সাধারণ ক্রেতাদের ক্ষোভ ও অভিজ্ঞতার কথা উঠে আসে।
মইন আহমেদ নামে এক ভুক্তভোগী গ্রাহক স্পষ্ট লিখে জানান, “আমি এই কারণেই মামলা দিয়েছি। আপনারা যারা এই সমস্যা ফেস করছেন আমাকে কমেন্ট করবেন। আমি ২৮ তারিখ শুনানিতে এই প্রমাণগুলো দেখাব।”
সাজিদ হাসান নামে আরেক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটা খুবই খারাপ। আমি আজকে একটা রিভিউ দিলাম ভাঙ্গা প্রোডাক্ট পেয়েছি, রিভিউ এক্সেপ্ট করে নাই তারা। তাহলে রিভিউ দেওয়ার দরকারই বা কি!”
কর্মকার রিংকু সমর্থন জানিয়ে লিখেন, “কথা সঠিক। তারা এক স্টার রিভিউ দিলে রিভিউ এপ্রুভ করে না।”
এছাড়া আরেকজন গ্রাহক নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, “কোনো নেতিবাচক রিভিউ তারা এক্সেপ্ট করে না। আমি একটা ইঞ্জিন অয়েল নিয়ে নকল জিনিস পেয়েছি, রিভিউ দিলাম কিন্তু নট এপ্রুভড। কি আজব! পণ্যের ভালো খারাপ সবই তো থাকবে। তাই বলে শুধু ভালো হলে এক্সেপ্ট করবে খারাপ হলে এক্সেপ্ট করবে না? এটা গ্রাহকদের সাথে এক ধরনের প্রতারণা। তাছাড়া তাদের এখানে বহু ফেইক রিভিউ দেখা যায় যা কার্টআপের সংশ্লিষ্টরা নিজেরাই দেয় হয়তো। এগুলো কোন ধরনের ভন্ডামি?”
পণ্য না পেয়ে আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মাহফুজুর রহমান বর্তমানে চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোর এমন স্বেচ্ছাচারিতা, ভুয়া রিভিউ প্রমোট ও ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদারকি ও আইনি হস্তক্ষেপ দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা।










