চিকিৎসা নেওয়ার পরও মুখের পোড়া দাগ পুরোপুরি সেরে ওঠেনি। বরং এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে আরও দূরত্ব তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত ভেঙে যায় প্রায় ১০ বছরের সংসার। এক মাস আগে তাদের বিচ্ছেদ হয়েছে।

রিক্তা আক্তারের বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের বাঁশদাইড় গ্রামে। আর ওবায়দুর ইসলাম একই উপজেলার জোনাইল পক্ষমারী এলাকার তোতা মিয়ার ছেলে। ২০১৬ সালে প্রেমের সম্পর্কের পর পরিবারের অমতে বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করেন তারা। তাদের দুই সন্তান—ইমরান হাসান (৯) ও রোজমনি (৩)।

রিক্তার অভিযোগ, প্রায় এক বছর আগে স্বামীর পরকীয়া সম্পর্কের বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। এর জের ধরে ওবায়দুর তাকে জোর করে গরম ডালের মধ্যে মুখ চেপে ধরেন। এতে তার মুখের বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়। পরে চিকিৎসা নিলেও মুখে পোড়া দাগ রয়ে গেছে।

citytouch 728-X-90

রিক্তা বলেন, “মুখ পুড়ে যাওয়ার পর আমাকে আগে চেয়ে আরও বেশি কষ্ট দিত। তবু আমি সংসার করতে চেয়েছি। কিন্তু সে আমাকে তালাক দিয়েছে।”

স্বামীর প্রতি নিজের ভালোবাসার কথাও তুলে ধরেন রিক্তা। তিনি বলেন, “ওর হাত যখন পুড়েছিল, তখন আমি নিজের কথা ভাবিনি। অভাবের সংসারেও যতটা পেরেছি, চিকিৎসা করিয়েছি। ভেবেছিলাম, বিপদে-আপদে আমরা একসঙ্গে থাকব। তাকে কতটা যে ভালোবাসতাম, তা বলে প্রকাশ করার মতো ছিল না। সে তাও আমাকে তালাক দিয়েছে। আমি তো সংসার করতে চাই।”

সংসার ভেঙে গেলেও স্বামীর ঘরে ফেরার আশা ছাড়েননি রিক্তা। দুই সন্তানকে নিয়ে আবারও ওবায়দুরের সঙ্গে সংসার করতে চান তিনি। সন্তানদের কথা ভেবে একদিন স্বামী ফিরে আসবেন—এমন প্রত্যাশা তার।

তবে স্বামীর বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন রিক্তা। তিনি জানান, গরম ডালে মুখ চেপে ধরার ঘটনায় আদালতে মামলা করেছেন। গত মঙ্গলবার পুলিশ ওবায়দুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মাদারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় বলেন, “আদালত থেকে গ্রেপ্তারের নির্দেশনা ছিল। নির্দেশনা অনুযায়ী ওবায়দুরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।”

মুখের পোড়া দাগ আর ভেঙে যাওয়া সংসারের স্মৃতি নিয়ে দিন কাটছে রিক্তার। এরপরও তার চাওয়া একটাই—দুই সন্তানকে নিয়ে আবারও সেই সংসারে ফিরতে চান, যে সংসার একদিন ভালোবাসা দিয়ে গড়ে তুলেছিলেন।