এক দিনেই ইলন মাস্কের সম্পদ বেড়েছে প্রায় ৩ হাজার ৬০ কোটি ডলার। স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধির ফলে বিশ্বের শীর্ষ ধনী এই ব্যবসায়ী আবারও এক ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে নিজের অবস্থানও ফিরে পেয়েছেন তিনি।


ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে সোমবার (৫ অক্টোবর) লেনদেন শুরুর পরই মাস্কের সম্পদের মূল্য এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে তার মোট সম্পদের মূল্য প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার বা ১ লাখ কোটি ডলার ছিল।

citytouch 728-X-90


এর আগে গত জুনে প্রথমবারের মতো এক ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন মাস্ক। পরে স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় তিনি সেই অবস্থান হারান। শেয়ারের মূল্য আবার বাড়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ট্রিলিয়নিয়ারের মর্যাদা ফিরে পেয়েছেন।


মাস্কের সম্পদ বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে স্পেসএক্সের শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি। সোমবার কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৭ শতাংশের বেশি বেড়ে ১৭১ ডলারে পৌঁছায়। একই দিনে টেসলার শেয়ারের দামও ১ শতাংশের বেশি বেড়ে ৩৭৮ ডলারে ওঠে।


শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধির ফলে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে মাস্কের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে। ধনীদের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী জেফ বেজোসের সম্পদের মূল্য প্রায় ৩৭১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মাস্কের সম্পদের তুলনায় বেজোসের সম্পদ প্রায় ৬২৮ বিলিয়ন ডলার কম।


স্পেসএক্সের শেয়ারের বড় উত্থানই মাস্ককে আবারও ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের তালিকায় ফিরিয়ে এনেছে। সম্প্রতি মর্গ্যান স্ট্যানলির বিশ্লেষকেরা মন্তব্য করেছেন, স্পেসএক্সের শেয়ারের বর্তমান মূল্য তুলনামূলকভাবে কম। পাশাপাশি গত সপ্তাহে কোম্পানিটির স্টারশিপ প্রথমবারের মতো সফলভাবে কক্ষপথে পৌঁছানোর খবরও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।


এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়েও আলোচনায় রয়েছেন ইলন মাস্ক। তিনি জানিয়েছেন, স্পেসএক্সের এআইভিত্তিক সহযোগী প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেসএক্সএসআই’ করা হবে। প্রতিষ্ঠানটি ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা অতিমানবীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


মাস্কের মালিকানাধীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট গ্রোকও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় এসেছে। তবে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত এর নাম পরিবর্তনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।


এদিকে ইলন মাস্ককে নিয়ে নির্মিত প্রায় চার ঘণ্টার একটি তথ্যচিত্রও আলোচনায় রয়েছে। পরিচালক অ্যালেক্স গিবনির নির্মিত তথ্যচিত্রটি মাস্কের জীবন ও কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে এবং এতে তার কর্মকাণ্ডের সমালোচনামূলক দিকও তুলে ধরা হয়েছে।


তথ্যচিত্রটি নিয়ে ইতোমধ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মাস্ক। নির্মাতার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার হুমকিও দিয়েছেন তিনি। তথ্যচিত্রটি আগামী শুক্রবার নিউইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।