অবৈধ ও চুরি হওয়া মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে অবৈধ হ্যান্ডসেট শনাক্ত করে সেগুলোর ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা হবে। তবে প্রথম ধাপেই একই আইএমইআই নম্বর ব্যবহার করে চালানো সব ক্লোন মোবাইল ফোন বন্ধ করা সম্ভব হবে না।
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে বিটিআরসির কমিশন সভায় এনইআইআর চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে ২০২১ সালে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবস্থাটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এবার তৃতীয়বারের মতো উদ্যোগ নিয়ে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করতে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
বিটিআরসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ধাপে এনইআইআরের মূল সুবিধাগুলো চালু করা হবে। এর মাধ্যমে অবৈধ মোবাইল ফোন শনাক্ত করা এবং সেগুলোর ব্যবহার ও কেনাবেচা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে একই আইএমইআই নম্বর ব্যবহার করে একাধিক হ্যান্ডসেট চালানোর বিষয়টি এ পর্যায়ে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।
দ্বিতীয় ধাপে মোবাইল ফোনের নিবন্ধন বাতিল বা ডি-রেজিস্ট্রেশন সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ফোনের প্রকৃত মালিক শনাক্ত করা এবং মালিকানা পরিবর্তনের তথ্য হালনাগাদ করা সহজ হবে। তবে দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
বর্তমানে মোবাইল নেটওয়ার্কে সচল থাকা হ্যান্ডসেটগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনইআইআরে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি আমদানিকারকদের কাছে থাকা অবিক্রীত মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থা চালুর আগে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে অন্তত দুই মাস প্রচার চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে বিটিআরসির। কমিশনের সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত ক্লোন হ্যান্ডসেটগুলো প্রথম ধাপে পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে না। তবে দ্বিতীয় ধাপে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে কমিশন।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানিয়েছেন, অবৈধ মোবাইল ফোনের ব্যবহার বন্ধ করতে চায় সরকার। তবে এ বিষয়ে তাড়াহুড়া করা হবে না। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর সমাধান বের করা হবে, যাতে আগের উদ্যোগের মতো এবারও ব্যর্থতার মুখে পড়তে না হয়।
তিনি আরও জানান, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), সরকার ও গ্রাহকসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এনইআইআর ব্যবস্থা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এনইআইআর চালু হলে অবৈধ ও চুরি হওয়া মোবাইল ফোন শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে একই আইএমইআই নম্বর ব্যবহার করে চালানো ক্লোন হ্যান্ডসেট বন্ধের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ সমাধান পেতে দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।








