রাজধানীর সদরঘাটে লঞ্চে প্রবেশকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কয়েকজন শিক্ষার্থী ও লঞ্চকর্মীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি, মারধর ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য জবি ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে সদরঘাটের ৪ নম্বর টার্মিনালে ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও লঞ্চ সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিয়ে দুই শিক্ষার্থী লঞ্চে প্রবেশের চেষ্টা করলে কর্মীরা তাদের বাধা দেন। এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে এক লঞ্চকর্মীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। পরে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী সেখানে উপস্থিত হন।
লঞ্চ সংশ্লিষ্টদের দাবি, পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য লঞ্চ মালিক সমিতির কার্যালয়ে বৈঠক হয়। সেখানে মোবাইল ফোন ভাঙা ও চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। আলোচনা শেষে ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি নিষ্পত্তি হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তবে আর্থিক লেনদেনের সুনির্দিষ্ট তথ্য জানেন না বলে জানিয়েছেন ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. জিল্লু।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে লঞ্চটির এক কর্মী আরও অভিযোগ করেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিয়ে কিছু শিক্ষার্থী নিয়মিত সন্ধ্যা বা রাতে লঞ্চে আসেন। পরিচয়পত্র ছাড়া প্রবেশে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করেই ঘটনার সূত্রপাত বলে তার দাবি। এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
এদিকে মীমাংসার নামে টাকা দাবির বিষয়টি জানতে পেরে কয়েকজন সাংবাদিক তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তাদের সঙ্গে উপস্থিত কয়েকজনের বাগ্বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের ঘটনাস্থল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
জবি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঝামেলার কারণে সেখানে ছাত্রদলের দু-একজন সদস্য থাকতে পারেন বলে তারা ধারণা করছেন। তার দাবি, ছাত্রদলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ টাকা দাবি করলে সংগঠন এর দায় নেবে না। সংগঠনের কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।










