রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী আইয়ুব আলীকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজশাহী রেলস্টেশনে রাতভর বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের আহ্বানে শিক্ষার্থীরা স্টেশনের দিকে যাওয়ার পর বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।

রোববার রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত চলা ঘটনায় স্টেশনের প্রবেশদ্বার, টিকিট কাউন্টার, বিশ্রামাগার, সিসিটিভি ক্যামেরা, পার্সেল অফিস ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রেললাইন অবরোধের কারণে রাজশাহীর সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের রেল যোগাযোগও ব্যাহত হয়।

ঘটনার সূত্রপাত হয় রোববার রাতে। চাচাকে রিসিভ করতে রাজশাহী রেলস্টেশনে যাওয়া রাবির ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আইয়ুব আলীকে কয়েকজন রেল নিরাপত্তাকর্মী মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় আরএনবির চার সদস্য—আরিফ হোসেন, রোকন উদ্দীন, শফিকুল ইসলাম ও শাহাদত হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

citytouch 728-X-90

আইয়ুবকে মারধরের প্রতিবাদে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। পরে তার আহ্বানে শিক্ষার্থীরা রাজশাহী রেলস্টেশনের দিকে রওনা হন। তবে স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনায় আম্মারের নেতৃত্বের অভিযোগ উঠলেও তিনি সরাসরি ভাঙচুরের দায় স্বীকার করেননি। তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর বারবার হামলার অভিযোগ তুলে রেল কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান।

এদিকে ভাঙচুর বন্ধের আহ্বান জানাতে ঘটনাস্থলে গেলে রাজশাহী মহানগর বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রক্টরসহ শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করেন। ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে পশ্চিমাঞ্চল রেল।