জাতিসংঘ সদর দপ্তরে একসময় ছোট ও সংকীর্ণ কক্ষ থেকে এবার বড় পরিসরের আয়োজনে জায়গা পাওয়াকে ‘বিরাট পদোন্নতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। জাতিসংঘের ‘সামাজিক ব্যবসা, তরুণ ও প্রযুক্তি’ শীর্ষক সাইড ইভেন্টের ১১তম আসরে বক্তব্য দিতে গিয়ে রসিকতার ছলে এ কথা বলেন তিনি।
সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী দিনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান, তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস-হোর্তা এবং ব্রাজিলের মন্ত্রী ওয়েলিংটন দিয়াসসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ড. ইউনূস বলেন, অতীতে এ ধরনের আয়োজনের জন্য জাতিসংঘের একটি ছোট কোণার কক্ষে জায়গা মিলত, যেখানে অংশগ্রহণকারীদের স্থান সংকুলান হতো না। এবার বড় পরিসরে আয়োজন হওয়াকে তিনি ‘বড় এক পদোন্নতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতে আবার ছোট কক্ষে ফিরতে হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে বলেও রসিকতা করেন তিনি।
বক্তব্যে ড. ইউনূস ক্ষুদ্রঋণের ৫০ বছর পূর্তি ও সামাজিক ব্যবসার বিস্তার নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ‘গ্রামীণ আমেরিকা’ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ দিয়েছে। বাংলাদেশে সামাজিক ব্যবসার আওতায় পরিচালিত ১৫৩টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, টেলিমেডিসিন নেটওয়ার্ক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ চক্ষু হাসপাতালের উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে আগামী ডিসেম্বরে ‘গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানান ড. ইউনূস। শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য নেট কার্বন নিঃসরণের লক্ষ্য সামনে রেখে প্রতিষ্ঠানটি তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবে বলে জানান তিনি।










