শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা স্বাভাবিকভাবেই দিশেহারা হয়ে পড়েন। তবে এ সময় আতঙ্কিত হয়ে সময় নষ্ট না করে দ্রুত ও পরিকল্পিতভাবে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে নিখোঁজের পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
১. দ্রুত আশপাশে খুঁজুন
শিশুকে সর্বশেষ কোথায়, কখন এবং কার সঙ্গে দেখা গেছে—প্রথমেই তা নিশ্চিত করুন। বাড়ি, সিঁড়ি, ছাদ, গলি, দোকান, খেলার জায়গা, স্কুল, পার্ক, বাসস্ট্যান্ডসহ আশপাশের সম্ভাব্য স্থানে দ্রুত খোঁজ করুন। পরিবারের সদস্য ও পরিচিতদের বিভিন্ন জায়গায় ভাগ করে দিন।
২. দ্রুত পুলিশকে জানান
শিশু নিজে থেকেই ফিরে আসবে—এমন আশায় অপেক্ষা না করে নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করুন এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ জানান। নিখোঁজের বিষয়ে জিডি বা অভিযোগ করুন। আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দ্রুত সংগ্রহ ও যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
৩. শিশুর প্রয়োজনীয় তথ্য প্রস্তুত রাখুন
পুলিশকে শিশুর সাম্প্রতিক ছবি, নাম, বয়স, উচ্চতা, গায়ের রং, পরনের পোশাক ও জুতার বিবরণ এবং বিশেষ কোনো শারীরিক চিহ্ন দিন। সর্বশেষ কোথায় ও কখন দেখা গেছে, সেটিও জানান।
শিশুর কাছে মোবাইল থাকলে ফোন করুন। ফোনের শেষ অবস্থান, কল, মেসেজ বা অন্য কোনো ডিজিটাল তথ্য থাকলে কিছু মুছে ফেলবেন না।
৪. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি দিন, তবে সতর্ক থাকুন
সাম্প্রতিক পরিষ্কার ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে বিশ্বস্ত স্থানীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপে নিখোঁজের খবর প্রচার করা যেতে পারে। তবে জন্মনিবন্ধন নম্বর, পূর্ণ ঠিকানা বা অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকুন।
শিশুকে সর্বশেষ যে এলাকায় দেখা গেছে, সেই এলাকার স্থানীয় ও বিশ্বস্ত গ্রুপগুলোতে তথ্য ছড়িয়ে দিতে পারেন।
৫. হাসপাতাল ও পরিবহনকেন্দ্রেও খোঁজ নিন
শুধু বাড়ির আশপাশ নয়, নিকটবর্তী হাসপাতাল, ক্লিনিক, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতেও খোঁজ নিন। বিশেষ করে যেসব রাস্তা থেকে শিশুটি অন্য এলাকায় যেতে পারে, সেগুলোও বিবেচনায় রাখুন।
‘মুন অ্যালার্ট’-এ তথ্য জানান
নিখোঁজ ও অপহৃত শিশুদের দ্রুত উদ্ধারে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও অ্যাম্বার অ্যালার্ট ফর বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘মুন অ্যালার্ট’ (Missing Urgent Notification) সেবা চালুর কথা জানানো হয়েছে।
কোনো শিশু নিখোঁজ হলে সিআইডির ১৩২১৯ নম্বরে তথ্য জানানোর পাশাপাশি ‘মুন অ্যালার্ট’-এর অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও তথ্য রিপোর্ট করা যায়। পাশাপাশি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরেও জানানো যাবে।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর অপেক্ষা না করে দ্রুত পুলিশকে জানান এবং একই সঙ্গে আশপাশে পরিকল্পিতভাবে অনুসন্ধান শুরু করুন।










