রাজধানীর অলিগলি থেকে প্রধান সড়ক, এমনকি ফ্লাইওভার ও এক্সপ্রেসওয়েতেও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল বেড়েছে। নিবন্ধন ও লাইসেন্সবিহীন এসব যান নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করছে সরকার। প্রস্তাবিত বিধিমালায় জাতীয় মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি নিবন্ধন, রুট ও চালকের যোগ্যতা নির্ধারণের কথা রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে জানিয়েছেন, ব্যাটারিচালিত ও অবৈধ অটোরিকশাকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় আনার কাজ চলছে। তবে রাতারাতি বিপুলসংখ্যক মানুষকে বেকার না করে নিয়মতান্ত্রিকভাবে এসব যানকে শহর ও মূল সড়ক থেকে সরিয়ে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার কথা জানান তিনি।
নতুন বিধিমালায় যানের নকশা, রুট, চালকের ন্যূনতম বয়স ও বৈধ লাইসেন্স, ফিটনেস, গতিসীমা এবং পার্কিংয়ের নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। প্রতিটি অটোরিকশাকে স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ডিজিটাল নিবন্ধন ও কিউআর কোডযুক্ত লাইসেন্স নেওয়ার আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ঢাকার নিবন্ধিত রিকশার সংখ্যা ২ লাখ ১০ হাজার ৭৮২টি—এর মধ্যে ডিএসসিসিতে ১ লাখ ৮২ হাজার ৬৩০ এবং ডিএনসিসিতে ২৮ হাজার ১৫২টি। তবে এসব নিবন্ধিত রিকশার সবই প্যাডেলচালিত। রাজধানীতে বর্তমানে কতটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলছে, তার নির্ভরযোগ্য সরকারি হিসাব নেই।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুধু সড়কে অভিযান চালিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। চার্জিং ব্যবস্থা, নিবন্ধন, জিপিএস ও জিওফেন্সিংসহ সমন্বিত ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে। গ্যারেজ ব্যবস্থাপনাতেও একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি অটোরিকশা রাখার প্রস্তাবের কথা জানানো হয়েছে।
অটোরিকশার হঠাৎ লেন পরিবর্তন, উল্টোপথে চলাচল, আচমকা ইউটার্ন ও ট্রাফিক আইন না মানার অভিযোগ রয়েছে। মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকদের পাশাপাশি পথচারীরাও এসব কারণে ঝুঁকিতে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন চালক।
তবে অটোরিকশা উচ্ছেদের বদলে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার মাধ্যমে নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলো। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে হয়রানি বন্ধ, প্রশিক্ষণ ও নিবন্ধনের সুযোগ, দুর্ঘটনা ও স্বাস্থ্যবিমা, রুট পারমিট এবং চালকদের লাইসেন্সের ব্যবস্থা।
বুয়েটের অধ্যাপক ও এআরআইয়ের সাবেক পরিচালক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, অটোরিকশা পুরোপুরি বন্ধ না করে সুনির্দিষ্ট আইন ও নীতিমালার আওতায় এনে নিয়ন্ত্রণ করাই সমাধান। তার মতে, প্রস্তাবিত বিধিমালা দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।










