বিদ্যুতের দাম বাড়ার পর অনেক গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও প্রিপেইড মিটারে বিভিন্ন খাতে টাকা কাটার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে আবাসিক গ্রাহকদের বিদ্যুতের দাম সাতটি ধাপে নির্ধারণ করা হয়। এর সঙ্গে যোগ হয় ৫ শতাংশ ভ্যাট। পাশাপাশি অনুমোদিত লোড অনুযায়ী প্রতি কিলোওয়াটে ৪২ টাকা ডিমান্ড চার্জ দিতে হয়। মিটার নিজস্ব না হলে দিতে হয় মিটার ভাড়াও।

citytouch 728-X-90

ডিমান্ড চার্জ নেওয়া হয় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় ট্রান্সফরমার, বিতরণ লাইন ও অন্যান্য অবকাঠামো প্রস্তুত রাখার খরচ হিসেবে। আর মিটার ভাড়া নেওয়া হয় মিটার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য।

বর্তমানে ২ কিলোওয়াট লোডে মাসে ৮৪ টাকা এবং ১০ কিলোওয়াটে ৪২০ টাকা ডিমান্ড চার্জ দিতে হয়। বিতরণ সংস্থার হিসাবে, সিঙ্গেল ফেজ প্রিপেইড মিটারের ভাড়া ৪০ টাকা এবং থ্রি-ফেজ মিটারের ভাড়া ২৫০ টাকা মাসে।

ভোক্তা সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম বলেন, মিটার ভাড়া ও ডিমান্ড চার্জ নিয়ে গ্রাহকদের প্রশ্ন তোলার যৌক্তিকতা রয়েছে। তার মতে, মিটার ভাড়া বিতরণ চার্জের সঙ্গে সমন্বয় এবং ডিমান্ড চার্জ পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

বুয়েটের অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকার পরও ডিমান্ড চার্জ নেওয়া নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে। স্বাধীন নিরীক্ষা ও যাচাই হলে গ্রাহকদের আস্থা বাড়তে পারে বলে মনে করেন তিনি।

তবে ডিপিডিসির প্রকল্প পরিচালক মো. হানিফ উদ্দিন বলেন, প্রিপেইড মিটারে বাড়তি কোনো টাকা কাটা হয় না। পোস্টপেইডের মতো একই হারে ভ্যাট ও ডিমান্ড চার্জ নেওয়া হয়। গ্রাহক এককালীন মিটার না কিনলে মিটার ভাড়া নেওয়া হয়।

বিইআরসি জানিয়েছে, যাচাই-বাছাই করেই ডিমান্ড চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বশেষ বিদ্যুতের দাম বাড়লেও ডিমান্ড চার্জ বাড়ানো হয়নি।