গাজীপুরের শ্রীপুরে স্বামীকে পাশের ঘরে আটকে রেখে এক পোশাকশ্রমিককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তদের হুমকির ভয়ে দুদিন ঘরবন্দি থাকার পর স্বজনদের সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থানায় গিয়ে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নারী।
মামলায় চারজনকে আসামি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীর পরিচয় গোপন রাখতে ছদ্মনাম ‘লিলি’ ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি শেরপুর জেলার বাসিন্দা। শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের হানু মার্কেট এলাকায় ভাড়া বাসায় স্বামীর সঙ্গে থাকেন এবং স্থানীয় একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাস ধরে তারা ওই এলাকার হারুনের বাড়িতে ভাড়া থাকছিলেন। সম্প্রতি এলাকায় চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় স্বামীর সঙ্গে আলোচনা করে গত সোমবার বাসা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। বাড়ির মালিক হারুন অর রশিদকে তিন মাসের অগ্রিম ভাড়া পরিশোধ করে মালামাল সরানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তারা।
এ সময় স্থানীয় দুই যুবক ফারুক ও নয়ন তার বাসায় এসে স্বামীকে জোর করে ডেকে নিয়ে যান। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর স্বামী ফিরে না আসায় তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যার পর তার স্বামী বাড়িতে ফেরেন।
লিলির অভিযোগ, রাত সাড়ে ৮টার কিছুক্ষণ পর ফারুক ও নয়ন আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে তাদের ঘরে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে তারা তার স্বামীকে মারধর করে পাশের একটি ঘরে আটকে রাখেন। ফারুক দাবি করেন, তার স্বামীর কাছে টাকা পাওনা রয়েছে। এরপর তার কথামতো কাজ করলে দুজনকেই ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এতে রাজি না হওয়ায় ফারুক, নয়ন ও অপর এক ব্যক্তি তার হাত বেঁধে ফেলেন। গলায় ধারালো ছুরি ধরে এবং দুই পা বেঁধে রেখে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। এ সময় তিনি বারবার আকুতি-মিনতি করলেও অভিযুক্তরা তা উপেক্ষা করেন। চতুর্থ ব্যক্তিও নির্যাতনে অংশ নেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
লিলির ভাষ্য, ঘটনার পর অভিযুক্তরা তাদের বাড়ির আশপাশে নজরদারি করছিলেন। তাদের হুমকি ও ভয়ের কারণে তিনি থানায় যেতে পারেননি। পরে স্বজনদের খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে আসেন। তাদের সহযোগিতায় থানায় গিয়ে আইনি সহায়তা চান তিনি।
ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, তাকে পাশের ঘরে আটকে রেখে মারধর করা হয়। এ সময় তাকে বলা হয়েছিল, তার স্ত্রী টাকা আনতে গেছেন। স্ত্রীর ওপর নির্যাতনের বিষয়টি তাকে জানানো হয়নি। ঘটনার পর স্ত্রীর কাছে গিয়ে তিনি নির্যাতনের বিষয়টি বুঝতে পারেন।
তিনি আরও জানান, বিচার চাইতে বের হওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দেন। ভয়ে তারা বাড়ি থেকে বের হতে পারেননি। পরে আত্মীয়স্বজনের সহযোগিতায় থানায় আসতে সক্ষম হন।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই থানার পুলিশ পরিদর্শককে (তদন্ত) প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।










