নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ হত্যা মামলায় সাজেবুল ইসলাম অপূর্ব (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে দুর্গাপুর পৌরশহরের পুরাতন সিনেমা হল রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার সাজেবুল ইসলাম অপূর্ব দুর্গাপুর পৌরশহরের উকিলপাড়া এলাকার শমসের আলীর ছেলে। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার সাকের আহমেদ জানিয়েছেন, অপূর্ব স্থানীয়ভাবে পরিচিত সন্ত্রাসী তাজুল ইসলামের সহযোগী।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে দুর্গাপুর উপজেলার তেলনজিয়া গ্রামে বাড়ির পাশে একটি দোকানে বসে থাকা অবস্থায় সাংবাদিক আলিফকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। রাত সোয়া ৮টার দিকে দুর্গাপুর পৌরসভার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের কিছুটা ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ একটি বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেলের নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন তিনি। সেখানে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধ নিয়ে লেখালেখি করতেন।

আলিফের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামে।

ঘটনার দিন আলিফ তেলনজিয়া গ্রামে তাঁর শ্বশুরবাড়ির পাশের একটি দোকানে চা পান শেষে বের হচ্ছিলেন। এ সময় দুই যুবক এসে তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয় বাসিন্দারা গুরুতর আহত অবস্থায় আলিফকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগেও আলিফের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল। গত বছরের ১০ নভেম্বর দুপুরে দুর্গাপুর উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় দুর্বৃত্তরা তাঁকে কুপিয়ে জখম করে। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা এক সহকর্মী বাধা দিতে গেলে তাঁকেও অস্ত্র দেখিয়ে ধাওয়া করা হয়।

সাংবাদিক আলিফ হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সাজেবুল ইসলাম অপূর্বর ভূমিকা কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার কথা। মামলার তদন্ত ও অন্য জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে পুলিশের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।