রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনে ফুটপাতে বসে থাকা নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান (২৪) গাড়িচাপায় নিহত হওয়ার ঘটনায় আটক কিশোরের নাম মামলায় উল্লেখ করা হয়নি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বিশ্রাম নেওয়ার সময় একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উঠে গেলে মেহেদীকে চাপা দেয়। পরে তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মেহেদী নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামের বাসিন্দা।
এ ঘটনায় বুধবার নিহতের বড় ভাই মুক্তাদির ইসলাম (২৮) গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলায় গাড়ির চালক হিসেবে আকাশ মার্ক (৪৪)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর থেকে আকাশ পলাতক রয়েছেন।
গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইসমাইল হোসেন জানান, নিহতের ভাই আকাশকে চালক হিসেবে অভিযুক্ত করে মামলা করেছেন। আটক কিশোরের নাম মামলায় উল্লেখ করা হয়নি।
তিনি বলেন, “মামলায় ওই কিশোরের নাম দেওয়া হয়নি। তবে সে আমাদের হেফাজতে আছে। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।”
পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার সময় চালকের আসনে থাকা এক কিশোরকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। বর্তমানে সে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক কিশোর গুলশানের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ও-লেভেলের শিক্ষার্থী। দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত গাড়িটি তার মায়ের নামে নিবন্ধিত বলে জানা গেছে। তার বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন ক্যাপ্টেন।
সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেছে
দুর্ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে মেহেদীকে চাপা দেয়। পরে গাড়িটি একটি ল্যাম্পপোস্টে ধাক্কা খেয়ে থেমে যায়।
ফুটেজে গাড়ির চালকের আসন থেকে কালো টি-শার্ট পরা এক কিশোরকে বের হতে দেখা যায়। গাড়ির অন্য পাশ থেকে শার্ট পরা এক মধ্যবয়সী ব্যক্তিকেও বের হতে দেখা যায়।
ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হওয়ার পরও তারা কিছুক্ষণ সেখানে অবস্থান করেন। পরে স্থানীয়রা কিশোরটিকে আটক করে পুলিশের কাছে তুলে দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনা তদন্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।









