মনপুরা (ভোলা) প্রতিনিধিঃ
মসজিদে ঢুকে ভোলা নাজিউর রহমান কলেজের অধ্যক্ষের উপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের যুগ্ন আহবায়ক মো. সেলিম ও তার ভাই মো. রুবেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। উক্ত ঘটনায় মনপুরা থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ৯টায় উপজেলা মডেল মসজিদে এশার নামাজ শেষে হাদিসের তালিম চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত সেলিম ও রুবেল উপজেলার হাজীরহাট ইউনিয়নের চর যতিন গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী মো. মহিউদ্দিন মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ এবং বর্তমানে ভোলা নাজিউর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
হামরার ব্যাপারে অধ্যক্ষ মোঃ মহিউদ্দিন জানান, এশার নামাজ শেষে তিনি মসজিদে বসে হাদিসের তালিম শুনছিলেন। এ সময় হঠাৎ মো. সেলিম ও তার ভাই মো. রুবেল দেশীয় লাঠি নিয়ে মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে স্থানীয় মুসল্লিরা এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করেন বলে দাবি করেন তিনি।
অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন আরও অভিযোগ করে বলেন , মোঃ সেলিম আগে মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজে নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে তিনি চাকরি থেকে পদত্যাগ করে নিজেকে এমএলএসএস পদে অধিকারী দাবি করেন। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করা হলেও সেসব মামলায় সেলিম পরাজিত হন। পরবর্তীতে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে অভিযোগের পর সেলিমকে চাকরি থেকে পুরোপুরি অব্যাহতি দেয়া হয় বলেও তিনি জানান। এসব ঘটনার জেরেই তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি অধ্যক্ষের। তিনি আরও জানান,আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে।
মসজিদে উপস্থিত স্থানীয় কয়েকজন মুসল্লি জানান, এশার নামাজ শেষে তারা হাদিসের তালিম শুনছিলেন। হঠাৎ সেলিম ও রুবেল মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে অধ্যক্ষ মহিউদ্দিনকে মারধর শুরু করেন। তারা বাধা দিতে গেলে তাদের ওপরও হামলার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
তবে হামলার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. সেলিম ও মো. রুবেলের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের উভয়ের মুঠোফোন বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, উক্ত ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। ইতোমধ্যে আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
মসজিদে ঢুকে হামলার বিষয়ে সত্যতা যাচাই করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবিব বলেন, আহত অধ্যক্ষ মোঃ মহিউদ্দিন অভিযোগ দায়ের করলেই দোষীদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে মসজিদে ঢুকে একজন কলেজ অধ্যক্ষের উপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিভিন্ন পেশাজীবি সংগঠন। পাশাপাশি দেষিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক স্বাস্তির দাবি জানান তারা।
#










