সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সাদুল্লাপুর উপজেলার সাহারবাজার এলাকার হামিদুল ইসলাম (৩৩), গাইবান্ধা সদর উপজেলার উত্তর কোমরপুরের আব্দুল মজিদ সরকার (৩৬), ফুলছড়ি উপজেলার মদনের পাড়ার মোর্শেদা খাতুন (৪৫) এবং একই এলাকার মোছা. জেসমিন আক্তার (২৮)।

পুলিশ জানায়, ৪০ হাজার টাকায় শিশুটিকে বিক্রি করা হলেও এর মধ্যে মধ্যস্থতাকারী চক্র ৯ হাজার টাকা নেয়। ফলে শিশুটির বাবা হামিদুলের হাতে আসে ৩১ হাজার টাকা।

citytouch 728-X-90

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে সাদুল্লাপুর উপজেলার সাহারবাজার এলাকা থেকে হামিদুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ছোট ওমরপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে হামিদুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার বাড়ি থেকে শিশু বিক্রির সহযোগী আব্দুল মজিদ সরকারকে আটক করা হয়।

মজিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মদনের পাড়া এলাকা থেকে চক্রের আরেক সহযোগী মোর্শেদা খাতুনকে আটক করা হয়। পরে আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফুলছড়ির মদনের পাড়া ছলের মোড় এলাকার সোলেমান চৌকিদারের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওই বাড়ি থেকেই শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে রাত ১০টার দিকে শিশুটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার মা রুমানা আক্তারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মোত্তালিব সরকার বলেন, শিশু বিক্রির খবর পাওয়ার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

শিশুটির মা রুমানা আক্তার জানান, গত ১৭ জুলাই বিকেলে হামিদুল গাইবান্ধা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকায় তার শ্বশুরবাড়িতে আসেন। এ সময় ফাতেমাকে জুস কিনে দেওয়ার কথা বলে কোলে নিয়ে বাইরে যান তিনি। এরপর আর ফিরে আসেননি।

রুমানা বলেন, দুই দিন পর ফোন করে মেয়েকে ফেরত দেওয়ার শর্তে তার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন হামিদুল। টাকা না দিলে শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকিও দেন। এরপর থেকে হামিদুলের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

মেয়ের সন্ধান না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন রুমানা। পরে তিনি আদালতেরও দ্বারস্থ হন। আদালত আসামিকে গ্রেপ্তার এবং শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য সদর থানাকে নির্দেশ দেন।

সন্তান হারিয়ে তখন রুমানা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমি কোনো কিছু চাই না, শুধু আমার সন্তানকে ফিরে চাই।’

অবশেষে দুই মাসেরও বেশি সময় পর মেয়ে ফাতেমাকে ফিরে পেয়েছেন তিনি।