জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সুদৃঢ় করার মাধ্যমে স্থিতিশীল, মানবিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম।
তিনি বলেন, মত ও আদর্শের ভিন্নতা গণতান্ত্রিক সমাজের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। তবে জাতীয় স্বার্থ, সামাজিক সম্প্রীতি ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার প্রশ্নে সবাইকে দায়িত্বশীল ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান
জেলা প্রশাসক বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ইতিহাসে ৭ নভেম্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর দেশে গভীর রাজনৈতিক সংকট ও অস্থিরতার সৃষ্টি হয়। এর ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর সামরিক অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী সময়ে ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।
তিনি বলেন, ইতিহাসের যথাযথ মূল্যায়নে তথ্যনিষ্ঠ দৃষ্টিভঙ্গি, উদার মানসিকতা এবং অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি। অতীতকে অনুধাবন করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্থিতিশীল, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ফরিদা খানম আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। লাখো শহীদের আত্মত্যাগে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের মর্যাদা রক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা সবার নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।
জনবান্ধব প্রশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব
জেলা প্রশাসক বলেন, জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও আইনের শাসন একটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার অন্যতম ভিত্তি। ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে পারস্পরিক সহাবস্থান ও সহযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
জনপ্রশাসনের দায়িত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, নাগরিক অধিকার সুরক্ষা, সরকারি সেবার মানোন্নয়ন এবং জনবান্ধব প্রশাসন প্রতিষ্ঠা জনপ্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, পেশাদারত্ব ও জনসেবার মানসিকতা নিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের কাজ করতে হবে।
নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের সঠিক ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, তরুণদের মধ্যে দেশপ্রেম, মানবিকতা, নৈতিকতা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে।
আলোচনা সভা শেষে জেলা শিশু একাডেমি আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে সনদপত্র ও পুরস্কার হিসেবে বই বিতরণ করা হয়।









