রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে ঢাকা কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি সাদা রং দিয়ে মুছে ফেলা হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল থেকে এ কাজ শুরু হয়। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে গ্রাফিতি মুছে ফেলার বিষয়টি আগে জানতেন না বলে দাবি করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস।
সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজের নায়েমের গলিসংলগ্ন প্রাচীর ও মিরপুর রোডের সামনের অংশে আন্দোলনের সময় আঁকা গ্রাফিতিগুলো সাদা রং দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। এতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, ছাত্র-জনতার সংগ্রাম এবং রাষ্ট্র সংস্কারের দাবির প্রতীকী চিত্রগুলো আড়ালে চলে গেছে।
ক্ষোভ শিক্ষার্থী ও ছাত্রসংগঠনের
গ্রাফিতি অঙ্কনের নেতৃত্ব দেওয়া সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাকা কলেজ শাখার সভাপতি নাহিয়ান রেহমান রাহাত এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গ্রাফিতি মুছে ফেলার মধ্য দিয়ে কলেজ প্রশাসন অগণতান্ত্রিক ও জুলাইয়ের স্মৃতিবিরোধী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। পরিচ্ছন্নতার অজুহাতে এসব গ্রাফিতি মুছে ফেলা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কলেজের শিক্ষার্থী মো. জুলফিকারও ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে মুছে ফেলা গ্রাফিতিগুলো আবার আঁকা হবে কি না, তা প্রশাসনের কাছে জানতে চেয়েছেন।
তবে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. মিল্লাদ হোসেন বলেন, কলেজের ১৮৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ক্যাম্পাসে আসবেন। এ জন্য সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে দেয়ালগুলোতে রং করা হচ্ছে। জুলাইয়ের গ্রাফিতি মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে এ কাজ করা হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে তারা নিজেরা গ্রাফিতি আঁকবেন। অন্য সংগঠন বা সামাজিক সংগঠনগুলোও চাইলে নতুন করে গ্রাফিতি আঁকতে পারে।
বিষয়টি জানতেন না অধ্যক্ষ
ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, ক্যাম্পাসে থাকাকালে তিনি বিষয়টি জানতেন না। পরে জানতে পেরেছেন। আগে জানলে গ্রাফিতি মুছে ফেলতে নিষেধ করতেন।
তিনি বলেন, গ্রাফিতির বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের কোনো নেতিবাচক নির্দেশনা নেই। বিষয়টি নিয়ে প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা হয়েছে। মুছে ফেলা হয়ে থাকলে সেগুলো আবার লিখে দিতে হবে। আর যেসব অংশ এখনো মুছে ফেলা হয়নি, সেগুলো বাদ রেখে সংস্কারের কাজ করা যায় কি না, তা বিবেচনা করা হবে। সংস্কার প্রয়োজন, তবে তা গ্রাফিতি বাদ দিয়ে নয় বলেও জানান তিনি।
এদিকে দেয়াল থেকে জুলাইয়ের গ্রাফিতি মুছে ফেলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা কলেজ শাখা। একই সঙ্গে মুছে ফেলা গ্রাফিতি দ্রুত পুনরুদ্ধারসহ চার দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
উল্লেখ্য, ঢাকা কলেজের ১৮৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে কলেজটির সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এবং বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।









