নওগাঁর একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর যমজ সন্তানের মধ্যে এক নবজাতকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন এক দম্পতি। তাদের দাবি, অস্ত্রোপচারের আগে দুটি আল্ট্রাসনোগ্রাম প্রতিবেদনে গর্ভে দুটি জীবিত ভ্রূণের উপস্থিতির কথা উল্লেখ ছিল। তবে সিজারের পর তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে একটি কন্যাসন্তান। অপর নবজাতকের বিষয়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নবজাতকের বাবা শান্ত ইসলাম নওগাঁ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শান্ত ইসলামের স্ত্রী শান্তনা আক্তারের দুটি আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হয় গত ১২ ও ২১ অক্টোবর। জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ১২ অক্টোবরের প্রতিবেদনে দুটি জীবিত ভ্রূণের উপস্থিতি এবং উভয়ের হৃদস্পন্দন প্রতি মিনিটে ১৪৭ বার উল্লেখ করা হয়।
পরে ২১ অক্টোবর নওগাঁর রি-লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিবেদনে দুটি জীবিত ভ্রূণের কথা বলা হয়। সেখানে তাদের হৃদস্পন্দন যথাক্রমে ১৪৬ ও ১৪০ বার এবং সম্ভাব্য ওজন ২ হাজার ৩৩১ ও ২ হাজার ৪৮৬ গ্রাম উল্লেখ করা হয়।
সিজারের পর একটি সন্তান দেওয়ার অভিযোগ
শান্ত ইসলামের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার বিকেলে চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের পরামর্শে তার স্ত্রীকে নওগাঁর বলাকা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। পরে ওই চিকিৎসকের অধীনেই সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার হয়। অস্ত্রোপচারের পর পরিবারের কাছে একটি কন্যাসন্তান হস্তান্তর করা হলেও অপর নবজাতকের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।
শান্তর অভিযোগ, বিষয়টি জানতে চাইলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাকে আর্থিক প্রস্তাব দেয়।
প্রসূতি শান্তনা আক্তার বলেন, সিজারের আগেও তারা জানতেন, গর্ভে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে—দুটি সন্তান রয়েছে। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর তাদের শুধু একটি কন্যাসন্তান দেখানো হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অপর সন্তানের বিষয়ে জানতে চাইলে তার পেটের অস্ত্রোপচারের কাটা অংশ ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট সেলাই না করে ফেলে রাখা হয়। এ সময় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে তাকে হুমকি দেয় বলেও দাবি করেন তিনি। পরে অসুস্থ বোধ করলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের শর্ত মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সেলাই করার অনুরোধ জানান বলে জানান শান্তনা।
শান্তনা বলেন, ‘আমি আমার দুটি সন্তানকেই ফিরে পেতে চাই।’
ক্লিনিক ও চিকিৎসকের বক্তব্য
বলাকা ক্লিনিকের মালিক এনামুল হক বলেন, ডা. মাহফুজা খাতুনের পরামর্শেই ওই রোগী ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছিলেন এবং চিকিৎসক নিজেই অস্ত্রোপচার করেছেন। গর্ভে একটি সন্তান ছিল, নাকি দুটি তা চিকিৎসকই বলতে পারবেন। এ বিষয়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ কিছু জানে না।
অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, নবজাতকের বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ওসি ও পুলিশের একটি দল বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









