আদালত প্রাঙ্গণে অভিনেত্রী পরীমনির সঙ্গে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন সাবেক সুন্দরী মেঘনা আলম। পরীমনির প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতা প্রকাশের পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে কাউকে আগেভাগে দোষী না করে প্রকৃত দায়ী ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন মেঘনা।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে নিজের আইনি লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। মেঘনার ভাষ্য, ওই সময়ে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের উপস্থিতি তাকে সাহস ও নিরাপত্তার অনুভূতি দিয়েছে। একজন নারী হিসেবে সাংবাদিকদের মাঝেই নিজেকে সবচেয়ে নিরাপদ মনে করেছেন তিনি।

মেঘনা জানান, ২০২০ সালে মিস বাংলাদেশ হলেও তখন তিনি খুব পরিচিত মুখ ছিলেন না। তবে নিজের আইনি লড়াইয়ের সময় শত শত সাংবাদিক বিনা পারিশ্রমিকে সংবাদ সংগ্রহ করেছেন। দেহরক্ষী বা পুরুষ সঙ্গী ছাড়াই আদালতে গেলেও সাংবাদিকদের কাছ থেকে পরিবারের সদস্য ও বন্ধুর মতো সহযোগিতা পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

২০২৫ সালের অভিজ্ঞতার কথা

পোস্টে ২০২৫ সালের একটি রাতের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন মেঘনা। তার অভিযোগ, সেদিন কাউকে না জানিয়ে তাকে আদালতে নেওয়া হয়েছিল। বাবাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হলেও তাকে কারাগারে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় ভয়ে চিৎকার করে বাবার সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ করেছিলেন বলেও জানান তিনি।

মেঘনার দাবি, দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের সহযোগিতায় তাকে দীর্ঘদিন আটকে রাখা সম্ভব হয়নি। শ্রীলঙ্কা, ইতালি, ইউরোপ, আরব বিশ্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিকেরাও তার পক্ষে কথা বলেছেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।

পরীমনির প্রতি ভালোবাসা

পরীমনির প্রসঙ্গ টেনে মেঘনা লেখেন, অভিনেত্রীর প্রতি তার অনেক ভালোবাসা রয়েছে। নারীদের জন্য পরীমনির লড়াই এবং সব বাধা পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস তাকে অনুপ্রাণিত করে।

আদালত প্রাঙ্গণে পরীমনির সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে মেঘনা বলেন, সাংবাদিকদের কেউ জড়িত ছিলেন, নাকি অন্য কেউ এমন কাজ করে দ্রুত সরে গিয়ে অন্য কাউকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছেন, তা-ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সবশেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আদালতে আসা প্রতিটি নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিচার চাইতে এসে কোনো নারী যেন নতুন করে হয়রানি বা অসম্মানের শিকার না হন।