নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ
নেত্রকোনা পৌর শহরের ধারিয়া এলাকায় প্রায় সাড়ে ৩ শত বছরের কয়েক পুরুষের ভূগদখলকৃত মৃত কানাই সাহার নিজ পরিবারের জমির মালিকানা দাবীর অভিযোগ উঠেছে তাদেরই দীর্ঘ দিনের বর্গাচাষী শাহেদ আলীর বিরুদ্ধে। নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ চরমে। এরই মধ্যে বসতঘরে হামলা-ভাঙচুরে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে এক পক্ষ। তবে আসামিপক্ষের দাবি,পৈতৃক সূত্রে ওই জমিতে তাদেরও মালিকানা রয়েছে। দীর্ঘদিনের এই বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান চান এলাকাবাসী।
নেত্রকোনা পৌরসভার শহরতলী ধারিয়া এলাকা। জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ চলে আসছে দীর্ঘদিন। এবার সেই বিরোধ গড়িয়েছে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে। পূর্ব পুরুষ এবং পৈতৃক সূত্রে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৩ শত কাটার উপরে জমি ও বাড়ির মালিক তারা। কয়েক শত বছরের মালিকানার দলিলপত্রসহ বিভিন্ন প্রমাণ রয়েছে তাদের কাছে। আদালতের মাধ্যমে বাটোয়ারার পর নিজ নিজ অংশও বুঝে নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তাদের। দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি জমি জোরপূর্বক দখল করেছে। আগে যারা জমিতে চাষাবাদ করতেন,বর্তমানে সিএস খতিয়ানের দাবী তুলে প্রায় ২৮ কাঠা জমির মালিকানা দাবি করছেন শাহেদ আলী গং।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে প্রতিপক্ষ। তাদের দাবি,পৈতৃক সূত্রে এই জমিতে তাদেরও মালিকানা রয়েছে। মীরু শেখ ও বিশু শেখের মধ্যে সম্পত্তির মালিকানা ৮ আনা-৮ আনা হিসেবে বিভক্ত ছিল বলেও দাবি তাদের। তাদের কাছে সিএসসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে জানিয়ে আসামিপক্ষ বলছে,বৈধ দলিল দেখাতে পারলে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মেটাতে আপত্তি নেই।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবির মধ্যেও স্থানীয়ভাবে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা,জমির বিরোধ যেন কোনোভাবেই সংঘাত বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণ না হয়। মূল দলিল ও সরকারি রেকর্ড যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণের পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চান তারা।
এদিকে,অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করেছে পুলিশ। নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান,উভয় পক্ষ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জমির কাগজপত্রে কিছু জটিলতা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি জমিটি দীর্ঘদিন ধরে সৈকত সাহার দখলে থাকার বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে আদালতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আদালতে প্রসিকিউশন দাখিল করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি আর হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগে দীর্ঘ হচ্ছে বিরোধ। তবে সংঘাত নয়,বৈধ কাগজপত্র ও সরকারি রেকর্ড যাচাই করে আইনসম্মত সমাধানই চান দুই পক্ষ ও এলাকাবাসী।










