নাফীজ আহমেদ, ইবিঃ


ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি এবং হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার ( ২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় খেলার শেষ মুহূর্তে বল থ্রো-ইন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে লাঠিসোঁটা ও চেয়ার নিয়ে মারামারি হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত সাত শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। প্রতিবেদন লেখা আহত দুজন বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে ভর্তি রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত খেলাটি স্থগিত রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃবিভাগের খেলায় ইসলামের ইতিহাস বিভাগ এক গোলে এগিয়ে ছিল। খেলার শেষ মুহূর্তে বল থ্রো-ইনে গেলে বল আনতে যান হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মশিউর। এ সময় দর্শক সারিতে থাকা ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা বল দিতে সময়ক্ষেপণ করায় মশিউরের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। পরে উভয় পক্ষ লাঠিসোটা নিয়ে মারামারি শুরু করেন। এতে ইসলামের ইতিহাস বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের হুমায়ুন কবির ও হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মশিউর, আলিফ খান, আলিফ রাহাত ও তোফাজ্জলসহ ৭ জন আহত হন। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। পরে আলিফ খানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, খেলা শেষ মুহুর্তে বল থ্রো-ইন হওয়ায় মশিউর বল আনতে যান। এ সময় ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা সময়ক্ষেপণের জন্য বলটি দূরে ফেলে দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা মশিউরকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। পরে তারা আমাদের লাঠিসোটা নিয়ে মারধর করেন।

ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বলটি থ্রো-ইন হওয়ার পর বলটি আমরা দিতে গেলে সামনে থাকা অন্য একজনের পায়ে লেগে সেটি কিছুটা দূরে চলে যায়। তাও খুব বেশি দূরে যায়নি। এ সময় মশিউর বলতে থাকেন আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে বলটি দূরে ফেলে দিয়েছি। পরে মশিউরের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোটা নিয়ে তেড়ে এসে আমাদের মারধর করেন।

এ বিষয়ে আহত ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বল নিয়ে কথা কাটাকাটি হওয়ার পর একজন আমাকে পেছন থেকে ধরে উল্টে ফেলে দেন। এরপর অন্যরা আমাকে এলোপাতাড়ি পা দিয়ে মাথায়-মুখে লাথি মারতে থাকেন। এতে আমার মুখ ও দাঁত ফেটে গেছে।’

এ বিষয়ে আরেক আহত হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থী আলিফ খানের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

এ বিষয়ে দায়িত্বরত ডা. বদিউজ্জামান বলেন, ‘আহত অবস্থায় কয়েকজন শিক্ষার্থী মেডিকেলে আসে। তিনজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছে। বাকি দুজনের মধ্যে একজনের মাথা পেঠে গেছে এবং আরেকজনের ঠোঁট কেটে যাওয়া ও দাঁতে আঘাত পাওয়ায় সেলাই দেওয়া হচ্ছে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, আহতদের মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। দুই বিভাগের সঙ্গে আমরা বসে বিষয়টি সমাধান করেছি। তবে খেলাটি স্থগিত রয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধন্ত রেফারির তার নিয়ম অনুযায়ী নিবেন।