কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় আগামী ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন দেশের নদ-নদী ও সমুদ্র এলাকায় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে। এ সময়ে মাছ আহরণ, পরিবহন,মজুত ও বেচাকেনার ওপরও নিষেধাজ্ঞা থাকবে।


citytouch 728-X-90

নিষেধাজ্ঞাকে সামনে রেখে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় প্রস্তুতি শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও থানা পুলিশ। বিশেষ করে কলাপাড়ার আন্ধারমানিক, রাবনাবাদ, পায়রা নদীসহ উপকূলীয় নদ-নদী এবং বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হবে।


কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জহিরুন্নবী বলেন, আসন্ন নিষেধাজ্ঞাকে সামনে রেখে কলাপাড়ায় নিবন্ধিত ১৩ হাজার ৩৬৪ জন জেলের জন্য ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দকৃত চাল ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী জেলেদের মধ্যে এসব চাল বিতরণ করা হবে।


তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞা সফল করতে নিজামপুর ও পায়রায় দুটি কোস্ট গার্ড স্টেশন, লালুয়া ও কুয়াকাটায় দুটি নৌ পুলিশ ঘাঁটি এবং কলাপাড়া ও মহিপুর থানার সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে। উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট সব বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে নদ-নদী ও সমুদ্র এলাকায় জিরো টলারেন্স নীতিতে কঠোর নজরদারি ও পাহারা দেওয়া হবে।


এদিকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে জেলেদের মধ্যে যেমন রয়েছে উদ্বেগ, তেমনি রয়েছে ইলিশের উৎপাদন বাড়ার প্রত্যাশা। মহিপুরের জেলে মোঃ হাবিব বলেন, “নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ ধরতে না পারায় আমাদের সংসার চালাতে কষ্ট হয়। সরকার থেকে যে চাল দেওয়া হয়, তা আমাদের জন্য কিছুটা সহায়তা। আমরা চাই, নিষেধাজ্ঞার সময়ে যাতে কেউ অবৈধভাবে মাছ ধরতে না পারে এবং নিষেধাজ্ঞা শেষে নদী-সাগরে পর্যাপ্ত ইলিশ পাওয়া যায়।”


জেলেরা জানান, বছরের বড় একটি সময় তারা সাগর ও নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় আয় বন্ধ থাকায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সরকারি সহায়তা দ্রুত ও সঠিকভাবে বিতরণের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা চলাকালে বিকল্প সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।এছাড়াও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ২রা অক্টোবর থেকে ১২ অক্টোবর মাত্র ১১ দিনের অবরোধ থাকায় ভারতীয় জেলে ও ট্রলার নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।


মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য হলো ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা। এ সময়ে মা ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে পারলে পরবর্তী সময়ে নদী ও সাগরে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তাই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসনের পাশাপাশি জেলে, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।